স্থানীয় সংবাদ

প্রেমের প্রলোভনে ধর্ষণ ও অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে : লম্পট যুবক আটক

যশোর ব্যুরো ঃ যশোরে প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টির এক পর্যায় বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ এবং অন্তরঙ্গ মুর্হুতের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শেখ এহসান আহমেদ ফয়সালকে আটক করেছে পুলিশ। গত বুধবার ২২ এপ্রিল সকালে যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধর্ষিতা নারীর বাড়ি থেকে তাকে আটক করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জুয়েল হোসেন। ওই দিন বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আটক ফয়সাল যশোর শহরের শংকরপুর আকবরের মোড় এলাকার শামীম আহমেদ মানুয়ার ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, অভয়নগরের পোতপাড়া গ্রামের সোনিয়া আক্তার দিয়ার সঙ্গে ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ফয়সালের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ফয়সাল তাকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যান। সেখানে একটি হোটেলে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ মে প্রতারণার শিকার ওই নারী যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি মীমাংসার নামে ডেকে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। পরে স্থানীয়রা ওই নারীকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া, অভিযুক্ত ফয়সাল তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্নোগ্রাফি আইনে আরও একটি মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশ তাকে আটক করে।
উল্লেখ্য, ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তার দিয়া প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। অন্যদিকে, ফয়সালের পরিবার অভিযোগ করে জানিয়েছে, ভুক্তভোগী ওই নারী তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। টাকা না পেয়ে তিনি মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করছেন ।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button