বেনাপোলে চাঞ্চল্যকর ইউনুস আলী হত্যা রহস্য উদঘাটন : গ্রেফতার- ২

যশোর ব্যুরো : যশোর জেলা সীমান্তবর্তী পোর্ট থানার অন্তর্গত বেনাপোলে চাঞ্চল্যকর ইউনুস আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোরের একটি টিম। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় হত্যাকা-ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, বেনাপোল পোর্ট থানার অন্তর্গত রহমতপুর গ্রামের মহিউদ্দিন শেখ এর ছেলে তরিকুল ইসলাম (৪০) এবং একই গ্রামের আরাফাতের ছেলে সবুজ হোসেন (২১)। হত্যাকান্ডের শিকার ইউনুস আলী (৪৭) ছোট আচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন,পারিবারিক জটিলতা ও দাম্পত্য বিরোধের জেরই এ হত্যাকা- সংঘটিত হয়। নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ে, বিচ্ছেদ এবং পুনরায় সংসার শুরু এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে আনোয়ার হোসেন ইউনুস আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তিনি আরো বলেন ,তদন্তে জানা যায়,গত ২২ এপ্রিল বিকেলে তরিকুল ইসলাম কৌশলে ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করে। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে ইউনুস আলীকে হত্যা করা হয়। পরে সবুজ হোসেনের এ্যাপাচি মোটরসাইকেলে করে মরদেহ বেনাপোল-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত আসামী উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তর দায়িত্বপান পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া। হত্যাকান্ডের তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে। এক পর্যায় গত ২৭ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জ থেকে তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবুজ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পিবিআই জানায়,আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেনসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



