স্থানীয় সংবাদ

ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে মিজান ও হাফিজকে অবৈধ ঘোষণা আদালতের

খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় দখল

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বঘোষিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব হাফিজুর রহমানের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য পদ অবৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত। গতকাল রোববার খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. শামীম সূফী এই রায় ঘোষণা করেন। এর ফলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন বেআইনী হয়ে গেল।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি খুলনার সিনিয়র সহকারী জজ রাশিদুল আলম তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য হিসেবে কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে আপীল করেন তারা। সেটিও খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর খুলনার প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। শুরুতে এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেসিসির সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর খালেক আত্মগোপনে চলে যান। তখন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হন বিএনপি সমর্থিত সিরাজুল হক চৌধুরী। খুলনার মহানগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতার চাপে মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান নামে দু’জনকে অনিয়মের মাধ্যমে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য করা হয়।
বিএনপির ওই নেতার প্ররোচনায় ২০২৫ সালের ২১ মে সিরাজুল হক চৌধুরীকে সরিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন মিজানুর রহমান। হাফিজুর রহমানকে করা হয় সদস্য সচিব। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন মিজান। দখল বজায় রাখতে ২০২৪ সালের ২৬ জুন বিএনপির সমাবেশে হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ইউনিভার্সিটির তিন ট্রাস্টিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করা হয়। এরপর খুলনা মহানগর হাকিমের আদালতে চেয়ারম্যানসহ চার ট্রাস্টির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে ওই তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
সূত্রটি জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় দখলের অভিযোগ তুলে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ইউজিসিতে অভিযোগ জমা দেন প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিরা। ইউজিসির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গতবছর ১২ নভেম্বর ইউজিসি চিঠি দিয়ে জানায়, মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান বৈধ ট্রাস্টি নন।
পরবর্তী সময়ে মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খুলনার সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন ট্রাস্টি পবিত্র কুমার সরকার। গতকাল রোববার সেই মামলার রায়ে তাদের ট্রাস্টি পদ বৈধ নয় বলে ঘোষণা দিয়েছেন আদালত।
বাদি পক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ জানান, উভয়পক্ষের যুক্তি তর্ক শেষে আদালত বলেছেন মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান বৈধ ট্রাস্টি নন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য হিসেবে তারা কাজ করতে পারেন না। তাদেরকে কাজ করা থেকে বিরত থাকার নি¤œ আদালতের নির্দেশ বহাল থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button