আকিজ জুট মিলে শতাধিক পাট ব্যবসায়ীদের অবস্থান কর্মসুচী ও স্মারকলিপি প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের অভয়নগরের নোয়াপাড়ায় অবস্থিত আকিজ জুট মিলে শতাধিক পাট ব্যবসায়ীদের অবস্থান কর্মসুচী ও স্মারকলিপি প্রদান। নির্ধারিত মূল্য থেকে পাটের মূল্য প্রতি মন এ ৫০০/৬০০ টাকা কম ধার্য করায় পাট ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে শনিবার (০২ মে) বেলা সাড়ে ১১ টায় মিল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা ও স্মারকলিপি প্রদান করে। বিভিন্ন মোকাম এর কাঁচা পাট ব্যবসায়ীগন বলেন, আকিজ জুট মিল কর্তৃপক্ষ আমাদের পাটের নিধারিত মুল্যর কম দেওয়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনায় বিরাজ করছে। পাট ব্যবসায়ীরা বলছেন আমাদের যদি পাটের মূল্য কম দেয়া হয়,তাহলে একটি ট্রাকে দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হবে। আর এই লোকসান টা গিয়ে তৃণমূলে কৃষকদের মাথায় পড়বে। আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ নাসির উদ্দিন তার পাট ক্রয় কর্মকর্তা মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল ৫৪৫০ টাকা পাট ক্রয় করে। যশোরের অভয়নগরের নোয়াপাড়ায় অবস্থিত আকিজ জুট মিলে শতাধিক পাট ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, আকিজ জুট মিলের কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে বাজার যাচাই করে একটি রেট দিয়েছেন যেটি ৫৪৫০ টাকা করে আমাদের কাছ থেকে পাট ক্রয় করেছেন। আমরা সেভাবেই কৃষকের নিকট থেকে পাট কিনে এনে আকিজ জুট মিলে দিয়েছি। এখন আমাদেরকে জবাই করে দিচ্ছে এক মন পাটে সবকিছু কেটে-সেটে ৫/৬ শত টাকা প্রতি মন পাটে কম দিচ্ছে। এতে করে ব্যবসায়ীদের কেউ ২০ লক্ষ,কেউ ১৫ লক্ষ ও ৩৪ লক্ষ টাকার লোকসান গুনতে হবে। এভাবে করতে থাকলে কৃষকরা পাটের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে। শেখ বশির উদ্দিন বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পরে কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করে দিয়ে তাদের ইচ্ছামত দাম কষতে শুরু করেছে। আগে এমনটি ছিল না। কাঁচাপাট রপ্তানি যখন চালু ছিল তখন আমাদের কদর ছিল।আকিজ গ্রুপ এখন মনে করছেন দেশে একমাত্র তারাই টাকার মালিক হবে আর সবাই ফকির হয়ে ঘুরে বেড়াবে। বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের সহকারী সচিব দেবাশীষ ভট্টাচার্য জানান, কাঁচা পাট রপ্তানিতে শর্ত আরোপ করে বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আকিজ বশির গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ বশির উদ্দিন তিনি প্রায় ১৬ মাস উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কাঁচাপাট রপ্তানি উপর শর্ত আরোপ করে বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে করে তার নিজের স্বার্থই জড়িত রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা বলছেন। রপ্তানি কারকগণ সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে পাট ক্রয় করে। দেশের জুট মিলে চাহিদা পূরণ করে অবশিষ্ট পাট বিদেশে রপ্তানি করে।পাটের বাজার স্থিতিশীল রাখেন কাঁচা পাট ব্যবসায়ীরা। অন্তরবতী সরকারের বানিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন তার নিজ স্বার্থে শর্ত আরোপ করে রপ্তানি বন্ধ করে রাখেন। শুধুমাত্র জুটমিল মালিকদের লাভবান করার জন্য। কাঁচা পাট রপ্তানি কারকরা যেন বাজারে না থাকে। কাঁচাপাট রপ্তানি কারকরা বাজারে না থাকায় মিল মালিকরা পাটের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা ইচ্ছামত দাম নির্ধারণ করে। জুটমিল কাঁচা পাট ব্যবসায়ীদের পাটের মূল্য কম দিচ্ছে। যার কারণে শনিবার (২মে) যশোরের অভয়নগরের নোয়াপাড়ায় ব্যবসায়ীরা কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। কাঁচা পাট ব্যবসায়ীরা বলছেন কাঁচাপাট রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার কারণে আকিজ জুট মিলসহ অনেক মিলে আমরা কৃষকের নিকট থেকে পাট কিনে নিয়ে বিভিন্ন মিলে বিক্রি করি। তাদেরকে হয়রানি করছে। দাম নির্ধারণ করে পাট বিক্রি করেছি কিন্তু এখন আমাদের দাম কম দিচ্ছে। অবশ্যই অতিসত্বর কাঁচাপাট রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে পাট রপ্তানির ব্যবস্থা করা হোক। তাহলেই তৃণমূলের কৃষক তার পাটের ন্যায্য মূল্য পাবে। এ বিষয়ে কথা বলতে আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিনকে তার ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক মোবাইল নাম্বারে কল করলে তিনি রিসিভ করেননি। যার কারণে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। দেশের অধিকাংশ জুট মিলের মালিক আকিজ গ্রুপ। তারা মিল পরিচালনা করেন শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি থেকেও বঞ্চিত করেন। অনুসন্ধানে জানা যায় একজন শ্রমিক কে ৮ ঘণ্টার মজুরি দিয়ে থাকেন ২০০ থেকে ২৬০ টাকা। যা শ্রম আইনের লঙ্ঘন। সচেতনমহল মনে করেন কলকারখানা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।



