বাগেরহাট হাসপাতাল সমাজসেবা কার্য্যলয়ে দফায় দফায় চেক জালিয়াতি লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত, অফিস সহায়ক কে আসামী করে মামলা

বাদী স্বেচ্ছায় অন্যত্র বদলী
আজাদুল হক, বাগেরহাট ।
বাগেরহাটের জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সমাজ সেবা কার্য্যলয়ের মাধ্যমে দফায় দফায় চেক জালিয়াতি করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। বিষয়টি ধরা পড়ার পর হাসপাতালের রোগী কল্যান সমিতির তদন্তে ঘটনাটি আরো পরিস্কার হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে সমাজ সেবা অফিষঅল মোঃ জিল্লুর রহমান যোগদানের পর ৫ দফায় মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার ৩২৪ টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন পূর্বক আত্মসাত করা হয়েছে। ঘটনা বিষয়ে গত ৪ জানুয়ারী-২০২৬ হাসপাতালের রোগী কল্যান সমিতির কার্য্যনির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মোঃ আব্দুর রউফ মোল্লাকে আহবায়ক ও মোঃ মাহফুজুর রহমান টুলু এবং জাহিদুল ইসলাম যাদুসহ ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করে ঘটনার তদন্ত করা হয়। এর আগে ৩০ ডিসেম্বর-২০২৫ হাসপাতালের সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে তার খন্ডকালীন অফিস সহায়ক সুব্রত কুমার গাঙ্গুলীকে আসামী করে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এবং সুব্রত গাঙ্গুলীকে গ্রেফতার করা হয়। রোগী কল্যান সমিতি থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বাগেরহাট জেলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে আসা অসহায় ও দুস্থ রোগীদের ওষুধ ও চিকিৎসা বাবদ হাসপাতালের সমাজ সেবা কার্য্যলয় সরকারীভাবে আর্থিক সহায়তা করে আসছে। যা সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। অথচ, মোঃ জিল্লুর রহমান এখানে যোগদানের পর এ কার্য্যলয়ের আগের কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব ও হাসপাতালের ত্বত্তাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দারের স্বাক্ষরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর-২০২৫ শহরের অগ্রনী ব্যাংক পিএলসির মুনিগঞ্জ শাখা থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭১ টাকা উত্তোলন করা হয়। একই ভাবে পরের মাসের ২১ তারিখে অনুরুপ অর্থ উত্তোলন করা হয়। একই মাসের ২৬ তারিখ জিল্লুর রহমান ও অসীম কুমার সমাদ্দারের স্বাক্ষরিত চেকে ২ লাখ ৭০ হাজার ২৮১ টাকা একই ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়। এর পর ডিসেম্বর মাসের ২২ তারিখ ও ২৯ তারিখ আরো ২ টি চেকে জিল্লুর রহমান ও অসীম সমাদ্দারের স্বাক্ষরিত চেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার ৩২৪ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়। এ বিষয়ে হাসপাতাল সমাজ সেবা অফিসার মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, হাসপাতালের রোগী কল্যান সমিতির মাধ্যমে অফিস সহায়ক হিসাবে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা সুব্রত কুমার গাঙ্গুলী অফিসের ড্রয়ার থেকে ব্যাংকের চেকের পাতা চুরি আমার আগের কর্মকর্তা, আমার ও হাসপাতাল ত্বত্তাবধায়কের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে আত্মসার করেছে। তাকে ধরে পুলিশে দেয়াসহ আমি নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছি। জামিনে মুক্ত হয়ে আসা অফিস সহায়ক সুব্রত কুমার বলেন, আমি অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকুরী করি। জিল্লুর রহমান স্যার আমাকে চেক দিয়ে টাকা উত্তোলন করতে বলে। আমি সে অনুযায়ী অগ্রনী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে স্যার কে দিলে স্যার আমাকে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা বকসীস দিতেন। আর চেকে স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি পরিক্ষা করলেই পরিস্কার হবে। চেক জালিয়াতি করে সমাজ সেবা কার্য্যলয়ের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য রোগী কল্যঅন সমিতির অর্থ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম যাদু বলেন, চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তেলন করে আত্মসাতের ঘটনা সঠিক। আমাদের তদন্তে এ ঘটনার মুলহোতা হাসপাতাল সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান। আমাদের তদন্তে জিল্লুর রহমান এবং অফিস সহায়ক সুব্রত কুমার গাঙ্গুলী দুজনই অপরাধী। অথচ, মজার ব্যাপার হয়েছে এ ঘাটনায় মামলায় বাদী হয়েছেন জিল্লুর রহমান আর বিবাদী হয়েছেন অফিস সহায়ক সুব্রত কুমার। আবার মামলার বাদী জিল্লুর রহমান স্বেচ্ছায় সমাজ সেবার প্রধান কার্য্যলয়ে তদবীর করে অন্যত্র বদলীর আদেশ করিয়েছেন। যা নিয়ে বাগেরহাটে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সমাজ সেবার হাসপাতাল কার্য্যলয়ের সরকারী অর্থ কেলেংকারী ও জিল্লুর রহমানের বদলীর বিষয়ে বাগেরহাট জেলা সমাজসেবা কার্য্যলয়ের উপ-পরিচালক সন্তোষ কুমার বলেন মোঃ জিল্লুর রহমানের বদলীর আদেশ হয়েছে। তবে জেলা কার্যলয় থেকে রিলিজ করা হয় নাই। বিষয়টি উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। #



