ঈদকে সামনে রেখে খুলনায় রোগে আক্রান্ত ও মরা গরু বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে

শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ গেল রমজান মাস হতে গো মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কেসিসি নির্ধারিত মুল্য ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে না। আর এই গো মাংসের দাম বাড়তি থাকায় অসুস্থ্য মৃত্য প্রায় গরু এমনকি দুর্ঘটনায় বা অসুস্থ্য হয়ে মরে যাওয়া গরু মাংস বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এতে করে জনসাধারণের বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। গেল মঙ্গলবার বারাকপুর এলাকায় হঠাৎ হৈচৈ করে মৃত গরু মাংসের অভিযোগে উঠে স্থানীয় দিঘলিয়া এলাকার বাসিন্দা আরাফাত মোড়ল এর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বলেন, আমি মাংস ক্রয় করে রান্নার পর বুঝতে পারি যে গরুটির মাংস ভাল না কেমন একটি গন্ধ বের হচ্ছে। এরপর পর আমার মত অনেকে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন যে মাংস পচা। বিষয়টি জানাজানি হলে একটি মহলের চাপে ক্রেতাদের টাকা ফেরত দিয়ে দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া একই এলাকার ভ্রম্মগাতি এলাকায় বাবুল শেখের বাড়ীতে গাভীন গরু পেটে বাচ্চা অবস্থায় মারা গেলে রাত্রের অন্ধকারে সেই গরুর চামড়া ছিলে মাংস বিক্রির করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি ধামাচাপ দেয় একটি মহল। তবে সেই কাটা মাংসের কোন খোঁজ মেলিনি। সেই মাংস কোথায় বিক্রি হলো। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত আরাফাত মোড়ল বলেন, “আমি সুনামের সাথে ব্যবসা করছি। গরুর মাংস মোট ১১০ কেজি মাংস বিক্রি করেছি। সেই মাংস গরমের মধ্যে ড্রামে পলিথিন প্যাচানো থাকায় নষ্ট হয়েছে। কোন মরা গরুর মাংস ছিলনা।” এছাড়া গেল বছর ডুমরিয়াতে মরা গরু জবাই করে বিক্রি চেষ্টার সময়ে স্থানীয়রা তিন জন অসাধু কসাইকে ১২ মণ মরা গরুর মাংসসহ আটক করে। পরবর্তিতে ভ্রাম্ম্যমান আদালত পরিচালনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভুমি) অপ্রতীম কুমার চক্রবর্তী প্রত্যকে দুই মাসের করে কারাদ- প্রদান করেন। এছাড়া অভিযোগ আছে খুলনায় কেসিসির একাধিক কর্মকর্তারা অর্থের বিনিময়ে অসুস্থ মৃত্য প্রায় গরুর মাংসকে বৈধতা দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সচেতন নাগরিক মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, বর্তমানে এক কেজি গরুর মাংসর দাম ৭৮০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পবিত্র কেজি। খুলনা সিটি কর্পেরেশন পরিচালিত যতগুলো পশু জবাইয়ের কসাইখানা বা স্লটার হাউজ আছে বিশেষ করে খালিশপুর, আড়ংঘাটা এলাকায় গল্লামারীতে এসব পিলখানায় বিশেষ করে শুক্রবার মধ্য রাত্রে কসাই ও কেসিসির অসাধু কর্মচারদির যোগ-সাজসে মৃত রোগাটে অসুস্থ্য গরু জবাই করে বাজারে বিক্রি করছে। গভীর রাত্রে তদারকির জন্য প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকার থাকেনা । এই সুযোগে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে এসব অপকর্ম হচ্ছে। আর এসব মাংস মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিষয়টি নিয়ে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের উপঃ পরিচালক ডাঃ প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এসব মরা বা রোগে আক্রান্ত পশুর মাংস ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা টক্সিন থাকে। এসব মাংস খেলে ডায়েরিয়া, পেটে ব্যাথা, নানা ধরণের অসুখ হতে পারে। বিষয়টি জাতীয় ভোক্তা অধিকারের বিভাগীয় উপঃ পরিচালক মোঃ সেলিম বলেন, কেসিসি’র নির্ধারিত দামের বাহিরে মাংস বিক্রি করা যাবেনা। এছাড়া মরা গরুর মাংস বা অসুস্থ্য গরুর মাংস বিক্রি করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নিব। আমরা বিষয়টি তদারকি করছি। এসব প্রমান পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিব।



