স্থানীয় সংবাদ

যশোরের শার্শায় ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক

# চুনোপুঁটিরা গ্রেপ্তার গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে! #
# গায়েব মোটরসাইকেল ঘিরে প্রশ্ন যশোর ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে #

যশোর ব্যুরো ঃ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। তবে অভিযানের পর জব্দ করা একটি দামি মোটরসাইকেল রহস্যজনকভাবে মামলায় জব্দ তালিকা থেকে মোটর সাইকেল বাদ পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ১৪ মে বিকেলে শার্শা থানার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের আমতলা এলাকায় নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিবি পুলিশের এসআই বাবলা দাস, এএসআই হাফিজুর রহমান ও এএসআই নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম অভিযান চালিয়ে ওই থানা এলাকার আমতলা এলাকায় আরশাদ আলীর বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর থেকে ইস্রাফিল হোসেন ও সাদ্দাম হোসেন নামে দুই যুবককে আটক করে। পরে তাদের কাছ থেকে ৮০ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক ইস্রাফিল হোসেন আমলাই গ্রামের প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে এবং সাদ্দাম হোসেন বাগআঁচড়া সাতমাইল মাঠপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।
ডিবি পুলিশ আরো জানান, আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আটক দুই যুবক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বাগআঁচড়া ইউনিয়নের একটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা প্রকাশ্যে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাঝে মধ্যে দুই-একজন খুচরা কারবারি গ্রেপ্তার হলেও মূল গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে নিরাপদে। ফলে এলাকায় মাদকের বিস্তার কমছে না।
এদিকে অভিযানের সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি দামি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে স্থানীয় সূত্র। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেটি থানায় না নিয়ে আসামিদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, শুধুমাত্র চুনোপুঁটি গ্রেপ্তার নয়— মাদকের মূল হোতা, অর্থদাতা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনতে পারলেই সমাজ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর ডিবি পুলিশের
এসআই বাবলা দাসের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ প্রসঙ্গে কথা হয়, যশোর ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সুজন কুমার ম-লের সাথে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। জরুরী কাজে বাইরে আছি বলে তিনি জানান। তবে তিনি বলেন,উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ ও গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button