জাতীয় সংবাদ

৭৫৫০ ভরি সোনা আত্মসাত করে কর্মচারী থেকে জুয়েলারির মালিক গ্রেপ্তার

# কিনেছেন বাড়ি-গাড়িও, অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ছিলেন স্বর্ণের দোকানের সাধারণ কর্মচারী। ৫ বছরের ব্যবধানে হয়ে গেছেন ‘অভিজাত সোনা ব্যবসায়ী’। মালিকের ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাত করে কিনেছেন বাড়ি গাড়িও। কর্মচারী থেকে রাজধানীর অভিজাত বিপনি বিতানে একাধিক জুয়েলারি দোকানের মালিক বনে যাওয়া কৃষ্ণ বশাককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিআইডির এই দুঃসাহসিক অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ড. মোহাম্মদ রুহুল আমিন সরকার। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের অলঙ্কার নিকেতন প্রাইভেট লিমিটেড জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের ঘটনায় কৃষ্ণ বশাককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি এক সময় ওই প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়কর্মী ছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় কৃষ্ণ বশাককে তদন্তের স্বার্থে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) এই আবেদন করা হয়। মামলার বাদী অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনকালে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্যান্য আসামিদের যোগসাজশে কৃষ্ণ বশাক ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, যার আনুমানিক মূল্য ৯৪ কোটি ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। মামলার তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া এজাহারনামীয় এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তে আরও জানা যায়, স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও কৃষ্ণ বসাক অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার মধ্যে ফ্ল্যাট, শেয়ার ও স্বর্ণের তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেন পাওয়া গেছে। সার্বিক তদন্তে আসামির সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় আত্মসাৎকৃত স্বর্ণ উদ্ধার, অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করা হয়। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগের একটি দল কৃষ্ণ বশাক ওরফে স্বপন বশাককে গ্রেফতার করে। সিআইডি বলছে, আত্মসাৎ করা এসব স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির টাকায় নিজেই জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন কৃষ্ণ বশাক, হয়েছেন গাড়ি-বাড়ির মালিক। পুঁজিবাজারেও বিনিয়োগ আছে তার। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দোকান মালিকের ছেলে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সে একাধিক জুয়েলারি দোকান রয়েছে তাদের।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button