পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে খুলনায় বিক্ষোভ

# শুভেন্দু অধিকারীকে প্রকাশ্যে মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন, বাড়িঘর ভাঙচুর, মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাংলাদেশ বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে খুলনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের উদ্যোগে নগরীর ডাকবাংলা চত্বরে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বক্তারা বলেন, মুসলমানের রক্ত এক বিন্দু থাকলে কেউ ঘরে বসে থাকতে পারে না। আমরা আজকে রাজপথে এসেছি আমরা ভারতকে বলতে চাই তোমরা যতই লাফালাফি করো না কেন কোন লাভ নাই। বেশি অত্যাচার করলে আমরা আরও মজবুত হবো। আমরা মুসলমানের রক্ত দেখতে চাই না। মুসলমানের উপর যে আঘাত করবে তার উপর সেই আঘাত চলবে। মুসলমানের বিপক্ষে যে থাকবে তাদের পক্ষে আমরা নাই। মুসলমানের উপর আঘাত করলে আমরা বসে থাকবো না। তাই আসুন সকল দলমত নির্বিশেষে আমরা মুসলমানদের পক্ষে থাকি মুসলমানদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করবো ইনশাআল্লাহ।
বক্তারা আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের জানমাল, ইবাদতখানা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর ধারাবাহিক আঘাত মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। নিরীহ মুসলমানদের উপর দমন-পীড়ন, বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া, মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত কোন সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা আরো বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূতই নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি স্বরূপ।
সমাবেশে বক্তারা শুভেন্দু অধিকারীকে প্রকাশ্যে মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ক্ষমা না চাইলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় মুসলমানদের ওপর বর্তাবে না। বক্তারা জাতীয় সংসদে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ প্রস্তাব গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা বলেন, এ বিষয়ে সরকার নীরব থাকলে সেটি মুসলিম বিদ্বেষের প্রতি সমর্থন হিসেবে গণ্য হতে পারে। সমাবেশ শেষে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিলে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলটি ডাকবাংলা মোড় থেকে শুরু হয়ে নিউ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুন নূর মসজিদ কমপ্লেক্স এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মাওলানা নূর সাঈদ জালালী, মাওলানা আনয়ারুল আজম মাওলানা হেকমত আলী, শেখ মোঃ নাছির উদ্দিন ও মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
