স্থানীয় সংবাদ

সুন্দরবনে কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আটক

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড এর আওতায় সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ডাকাতি ও বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬ সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ডাকাতি ও বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ আটক করা হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের আমুরবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন ড্রেনের খাল এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৩ জুন ২০২৬ বুধবার বিকেল ৩ টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে আভিযানিক দল কর্তৃক ডাকাতদের ধাওয়া করে ৪ টি একনলা বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৭৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ১ টি টেলিস্কোপ, ১ টি সোলার প্যানেল, ১ টি ব্যাটারি, ১ টি ওয়াকিটকি চার্জার, ১ টি শিংসহ হরিণের মাথা, ৩ কার্টন সিগারেট, ২ বস্তা চাল এবং ১ টি কাঠের বোটসহ করিম শরীফ বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর ব্যবহৃত ১ টি আস্তানা ধ্বংস করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃত ডাকাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন রাত ১০ টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও পুলিশের সমন্বয়ে মোরলগঞ্জ থানাধীন পি সি বাড়ইখালি সংলগ্ন এলাকায় তার বাড়িতে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতি ও বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত ডাকাত আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদার (৪৫), বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন। উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য মালামালসহ আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button