শহীদ জিয়ার অনুধাবন করেছিলেন অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে পেছনে রেখে জাতি উন্নত হতে পারে না

# শহীদ জিয়ার শাহাদাৎ বার্ষিকীতে জেলা মহিলাদলের আলোচনায় মনিরুজ্জামান মন্টু #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু বলেছেন, আজকের এই দিনে প্রথমেই গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই মহান নেতাকে, যিনি ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দিশেহারা জাতিকে যুদ্ধের ঝাঁপিয়ে পড়ার দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন। রণাঙ্গনে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে যিনি বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের সমঅধিকার এবং ক্ষমতায়নের প্রকৃত সূচনা করেছিলেন শহীদ জিয়া। তিনি অনুধাবন করেছিলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে পেছনে রেখে একটি জাতি উন্নত হতে পারে না। তিনিই প্রথম সরকারে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা, সরকারি চাকরিতে নারীদের জন্য কোটা প্রথা চালু এবং গ্রামীন অর্থনীতিতে নারীকে স্বাবলম্বী করতে ‘পল্লী চিকিৎসক’ ও ‘গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী’তে নারীদের সম্পৃক্ত করেছিলেন শহীদ জিয়া।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম এঁর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার (০৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর কে. ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে খুলনা জেলা মহিলাদলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের পূর্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান বক্তার বক্তৃতায় জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, শহীদ জিয়ার সুদূরপ্রসারী চিন্তার পরিক্রমা ধরে রেখেছিলেন আমাদের নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। দেশের যে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, সেখানে নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার চরমভাবে বিপন্ন। এই পরিস্থিতিতে শহীদ জিয়ার আদর্শ, সততা এবং দেশপ্রেম আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ভন্ড ধর্ম ব্যবসায়ীরা গ্রামের সহজ-সরল মা-বোনদের জান্নাতের টিকেটের প্রলোভন দেখিয়ে স্বদেশ প্রেম থেকে দুরে সরিয়ে নিচ্ছে। মহিলা দলকে প্রতিটি বাড়ী বাড়ী যেয়ে শহীদ জিয়ার আর্দশ ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরতে হবে। ঘরে বসে থাকলে চলবে না, প্রতিটি ওয়ার্ড-ইউনিয়ন-উপজেলা/পৌরসভা পর্যায়ে মহিলাদলকে শক্তিশালী করতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী অবিসাংবাদিত নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে মহিলা দলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। খুলনা জেলা মহিলা দলের সভাপতি এড. তসলিমা খাতুন ছন্দার সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সেতারা সুলতানার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সদস্য আশরাফুল ইসলাম নূর, জেলা মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক শাহনাজ ইসলাম, নাসিমা আক্তার পলি, রেহেনা ইসলাম, কাজী জাহেদা, লক্ষ্মী রানী গোলদার, সুজনা জলি, দিলরুবা মিজান, সুরাইয়া মালা, কাজি মিতা পারভিন পিয়ারী, শাহিনুর বেগম, কানিজ ফাতেমা নুপুর, সালমা বেগম নয়ন, কোহিনুর বেগম, ফাতেমা বেগম, রেবেকা, দুলালী, লাকি বেগম, আয়েশা আক্তার, সোনিয়া, শারমিন আক্তার আখি, আঙ্গুরা বেগম, বিথী, নিঝুম, সুলতানা, রতœা, অলি আক্তার ও আলেয়া বেগমসহ নয়টি উপজেলা ও দু’টি পৌরসভা থেকে বিপুল সংখ্যক নেত্রী কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁদের কণিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমান কোকোসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ২৪’র গণঅভ্যূত্থানের শহীদ ও সারাদেশে নিহত দলের নেতাকর্মী-সমার্থকদের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মো. জাহিদুল ইসলাম।



