খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক যোগদানের পরে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের গণবদলি

# বদলি আতংকে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ স্বাস্থ্য বিভাগ খুলনার নবাগত পরিচালক ডাঃ শেখ মোহাম্মাদ মোশাররফ হোসেন যোগদানের কয়েকদিনের পর চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট সরকারে দোসর বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা ও বদলি বাণিজ্যের মূল হোতা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গণবদলি করেছে। গেল ১৯ মে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক পদে যোগদান করার পর তিনি খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত ও বদলি বাণিজ্য’র বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হয়ে উঠেছেন। এ দিকে এখনও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কর্মরত অসাধু কর্মচারীরা রয়েছেন বদলি আতঙ্কে। তবে বিষয়টি সঠিক ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এমন কর্মকান্ডকে সাধুবাদ জানিয়েছেন খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বরত সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এমনকি আরও কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখনও বহাল তবিয়তে অসাধু কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকেও চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন। নাম না প্রকাশ করার শর্তে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সহকারী (বড় বাবু) মাছুম বিল্লাহ, ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস, এম, জাহাতাব হোসেন ছিলেন বঙ্গবন্ধু স্বাস্থ্য পরিষদ স্বাস্থ্য এর সক্রিয় নেতা। বিগত দিনে আওয়ামলীগ সরকারের সময়ে এদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলাসহ বদলি করার পরও ক্ষমতার বলয়ে এরা প্রায় দেড় যুগের বেশি সময়ের মত একই জায়গায় চাকুরী করেছে। তারা বিভিন্ন সময়ে বদলি, পদন্নোতি, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। তারা যেন খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগকে নিজের বাড়ী বানিয়ে রেখেছেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাতাবকে চাকুরী দিয়েছেন তৎকালিন আওয়ামলীগের স্বাস্থ্য মন্ত্রী সালাউদ্দিন ইউসুফ তার বাড়ী ফুলতলা এলাকায়। সেই দাপটে তিনি বিগত আওয়ামী লীগের আমলে বানিয়েছেন কোটি টাকা সম্পদ, খুলনা মোস্তফার মোড়ে বাড়ী সহ অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু স্বাস্থ্য পরিষদ কমিটি বানিয়ে বিগত দিনে বেশ দাপটে চাকুরী করেছেন। তিনি কখনও আস্তে কথা বলতে পারতেন না। সব সময়ে উচ্চ স্বরে সকলের সাথে কথা বলতেন এমনকি নিজ অফিসের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে এমন আচারণ করতেন। এছাড়া তার ছত্রছায়াতে বর্তমান খুলনা সদর হাসপাতালের বড় বাবু প্রধান সহকারী মোঃ তরিকুল বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা তিনিও টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মে জড়িত আছেন। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। আমরা পরিচালক স্যারের এমন কাজকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। জানা যায় , খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ শেখ মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন যোগদানের ১৫ দিনের মধ্যে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত মোট ১৫ জন অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিহ্নিত করেন। পাশাপাশি তাদেরকে খুলনার বিভিন্ন জেলায় বদলি করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডাঃ শেখ মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত ঘোষনা দিয়েছি তার একটি অংশ হিসেবে নিয়ম মাফিক বদলি। আর যারা বদলি হয়েছে তারা সকলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারে দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তারা বঙ্গবন্ধু স্বাস্থ্য পরিষদ নাম দিয়ে যা ইচ্ছা তা করেছেন। এসব কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের আমলে দুদকের মামলা হয়েছে। এখানে স্বাস্থ্য বিভাগে অনেকে দেড় যুগের বেশি সময়ে চাকুরী করেছেন। তারা এই অফিসকে নিজের বাড়ী বানিয়ে রেখেছিলেন। এর আগে এখানে ছিলেন বড় বাবু মাছুম তিনি সামান্য প্যাকার পদে যোগদান করে ।এর পর অবৈধ পদন্নতি নিয়ে দাপটের সাথে এসব অনিয়ম করেছেন। এখন পরিবর্তন হচ্ছে নতুনদের সুযোগ ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এমন ব্যবস্থা নিয়েছি। আমি আমার কাজ করছি। আমি আশা করছি খুলনা বিভাগ হবে দুর্নীতি মুক্ত খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগ।



