খুমেক হাসপাতালে বারান্দায় রোগী পাটি ও কাথা বিছিয়ে নিচ্ছে সেবা

# শয্যা সংখ্যা ও ভবণ নির্মাণের দাবি ভুক্তভোগীদের #
শেখ ফেরদৌস রহমান: খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি নির্ভরযোগ্য সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান। তবে দিন দিন বাড়ছে জনসংখ্যা বাড়ছে রোগীর চাপ। বর্তমানে হাসপাতালটি ২৭২ জন চিকিৎসক আছে। পাশাপাশি প্রায় ৫শ জন নার্স, কাগজ কলমে ১৮৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী ছাড়াও ফ্রি সার্ভিসে আছে আরও কয়েকশ ওয়ার্ড বয়, আয়া ।এছাড়া হাসপাতালটিতে ৩৯ টির মত বিভিন্ন ইউনিট ও বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজারের মত রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। এতে করে খুলনাসহ আশেপাশের জেলার অসুস্থ রোগীরা দ্রুত সেবা নিতে আসছেন খুমেক হাসপাতালে। হাসপাতালটিতে ৫শ শয্যা থাকায় সেবা নিতে আসা রোগীরা অসুস্থ রোগীরা শয্যা পাচ্ছেনা। ধারণ ক্ষমতার থেতে তিন থেকে চার গুণ রোগী থাকছে তাই বাধ্য হয়ে হাসপাতালটির বারান্দা মেঝেতে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছে রোগীরা। গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসা রোগীর এতটা চাপ যে হাসপাতালটির উপরে উঠতে ব্যবহৃত সিঁড়ি পর্যন্ত রোগীরা । এছাড়া রোগীর সাথে থাকা স্বজনেরা তিব্র গরমে হাতপাখা নিয়ে বাতাস করছে রোগীর শরীরে। পাশাপাশি রোগীও স্বজনদের অবস্থানের কারণে আশেপাশে জায়গাগুলো খোলা থাকায় ধুলো বালি এমনকি মানুষের যাতায়েতের পথের ধুলো উড়ে ,নাক, মুখ, খাবারে মধ্যে যাচ্ছে। হাসপাতালটির দ্বিতীয়তলায় মেঝেতে শুয়ে আছে পিরোজপুর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী শংকর, তিনি মাজায় ব্যাথার কারণে ভর্তি আছে। তার সাথে আছে তার স্ত্রী ও সাড়ে পাঁচ বছরের একটি শিশু। দু’দিন আগে ভর্তি হলেও এখনও হাসপাতালটির বেডে উঠতে পারেনি। তার পাশে তার ছোট ছেলে ঘুমিয়ে আছে। মনে হচ্ছে সেই ছোট শিশুটিও অসুুস্থ হয়ে যাচ্ছে। তবে বাধ্য হয়েই সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এছাড়া তার পাশে রোগী জাহানারা তিনি এসেছেন সাতক্ষীরা জেলা থেকে পেটের সমস্যা নিয়ে। তিনি বলেন, আমি গেল তিনদিন যাবৎ একই জায়গায় আছি এখনো বেডে যেতে পারিনি। আর বেডে যেতে গেলে পরিচিত লোক লাগে আমাদের কেউ না থাকায় এখানে আছি। সব সময়ে পশে একজনের থাকা লাগছে। হাসপাতালটিতে এত রোগীর চাপ তবে, সরকার কেন আরও ভবণ নির্মাণ করছেনা। বিকল্প কিছু করার দরকার। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কাজী মোঃ আইনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটির বর্তমান যে অবকাঠামো আছে তার থেকে তিনগুণ রোগী সব সময়ে থাকে। অসুস্থ রোগীদের আমরা ফেরত দিতে পারি না। যে কারণে রোগীদের বাধ্য হয়ে মেঝে বা ফ্লোরে যা বলেন সেখানে অবস্থান করতে হচ্ছে। আমরা নতুনভাবে ভবণ নির্মাণের জন্য বেশ কয়েকবার চিঠি দিয়েছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। তবে কোন ফলাফল হয়নি। তবে ফেøার সব সময়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা নজর রাখছি। যেন পরিবেশ নোংরা না হয়। এতে করে রোগীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়বে বিষয়টা আমরা দেখছি।



