খুলনায় জুলাই স্মরণে এনসিপির কর্মসূচি, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ কর্মসূচি থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখতে হলে বিভেদ ভুলে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করা হয়। পরে শহীদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়া এবং এক শহীদের কবর জিয়ারতের কর্মসূচি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল। সেই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। তবে দুই বছর পরও আন্দোলনের অনেক আকাক্সক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনের শক্তিকে বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা। অনুষ্ঠানে এনসিপি খুলনা জেলার প্রধান সমন্বয়কারী মুক্তি ফয়জুল্লাহ বলেন, কোনো ধরনের স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে ছাত্র-জনতা আবারও গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের পক্ষে রাজপথে নামবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও এনসিপি নেতা সাইফ নেওয়াজ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন বিভক্তির সুযোগ নিয়ে পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমরা যদি নিজেদের মধ্যে বিভক্ত থাকি, তাহলে গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।
এনসিপির নেত্রী রুমি রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে এখনো অনেক পথ বাকি। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ রেখে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন ও সহায়তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানে আহত অনেক ব্যক্তি এখনো চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি। রাষ্ট্র ও সমাজের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। কর্মসূচিতে এনসিপি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি এবং আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।



