স্থানীয় সংবাদ

কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবি শাহবাগ মোড় থেকে সরে গেলেন আন্দোলনকারীরা

জুলাই আন্দোলণের সেই দিনগুলি-২

এম সাইফুল ইসলাম ঃ চব্বিশের ২য় জুলাই মঙ্গলবার। সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে এদিন মিছিল করেছেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাব ও বাটা সিগন্যাল মোড় ঘুরে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে থামে। এরপর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করার পর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ের রাস্তা ছেড়ে দেন। আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দাবি আদায়ে আগামীকাল বুধবার বেলা আড়াইটায় তাঁরা আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেবেন। আগামীকালও তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন ৷ দেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একই ব্যানারে একই সময়ে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান তিনি৷ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটা শুধু শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলন নয়। এটা একটা রাষ্ট্রের বিষয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এক জিনিস নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোনো বংশগত পরম্পরার বিষয় নয়, এটা একটা রাষ্ট্রীয় আদর্শ। এই আদর্শকে আমরা তরুণেরা ধারণ করি। সে জন্যই আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছি।’ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে মিছিলসহকারে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন অভিমুখে রওনা হন। সেখানে অবস্থান নিয়ে তাঁরা আগামীকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার খোলা রাখার দাবি তুলবেন বলে জানা গেছে৷ উল্লেখ্য, সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিমের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে দুই দিন ধরে গ্রন্থাগার বন্ধ রয়েছে। এদিন বেলা পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’এর ব্যানারে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা মিছিল বের করেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে নীলক্ষেত মোড়, সায়েন্স ল্যাব মোড় ও বাটা সিগন্যাল মোড় হয়ে শাহবাগে এসে মিছিলটি থামে। পরে শাহবাগ মোড়ে সড়কের ওপর অবস্থান নেন তাঁরা। মিছিলে আন্দোলনকারীরা ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কোটাপ্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’Ñএমন নানা স্লোগান দেন। বিকেল পৌনে চারটার দিকে মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে পৌঁছায়। অবশ্য তার আগেই সেখানে সড়কের ওপর বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন। মুখোমুখি হয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা পুলিশকে ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে পুলিশ সরে যায়। শাহবাগ মোড়ে এক ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সড়ক অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জুলাই আন্দোলণে তৎকালিন কারাবন্দি ছাত্রনেতা মহরম হাসান মাহিম বলেন, ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আমরা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে গুটি কয়েক ছাত্রনেতাকে নিয়ে আন্দোলণ শুরু করি। এরই মধ্যে আমাদের চাপ বাড়তে থাকে। আমরা গোপনে গোপনে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button