নির্বিচারে দৌলতপুর বাজারের নিক্ষিপ্ত বর্জ্য-আর্বজনায় দূষিত হচ্ছে ভৈরব নদী : জীব-বৈচিত্র হুমকির মুখে

# দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে মুরগীর উৎচ্ছিষ্ট ফেলা হচ্ছে নদীতে #
# নদী বাঁচাতে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিস্টদের হস্তক্ষেপ কামনা
মো. আশিকুর রহমান : খুলনা মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বাজারের মধ্যে দৌলতপুর একটি। প্রায় কয়েক যুগ ধরেই আশ-পাশের জেলা শহর ও স্থানীয় অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ঘীরে চলে ব্যবসা-বানিজ্যে। দৌলতপুর বাজারের পূর্ব পাশের্^র সংলগ্নে বহমান ভৈরব নদী। সকলের জানা নদী সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত একটি অপার সম্ভবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদ আরোহন ও মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস। দৌলতপুর বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভৈরব নদী। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য, বিগত সময়গুলোর মতো বর্জ্য নিক্ষেপের কর্মকা- সঠিক তদারকি অভাবে সম্প্রতি সময়েও দৌলতপুর বাজারের পূর্ব পাশের্^র সংলগ্নে বহমান ভৈরব নদীতে দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে নদীতে ফেলা হচ্ছে বাজারের নিক্ষিপ্ত বর্জ্য-আর্বজনা, যার প্রথম তালিকা রয়েছে মুরগী পট্টির মুরগীর উৎচ্ছিষ্ট, এছাড়াও বাজারে উন্নত ড্রেনেড ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পিত বর্জ্য-আবর্জনা নিষ্কাষনের ব্যবস্থার না থাকায় বাজারে নির্গত ময়লা ও দূষিত পানি, বর্জ্য-আর্বজনা, পথিলিনসহ অন্যান্য একই সাথে নদী সংলগ্ন এলাকায় কলকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার দরুন নদীর জীব-বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ রয়েছে । মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুরে বাজার সংলগ্ন নদীতে এসব উৎচ্ছিষ্ট ভেসে যেতে দেখা যায় গেছে। সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত অপার সম্ভবনাময় সম্পদ ও মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস নদীতে অর্থ্যাৎ, বাজার পাশ^বর্তী নদীতে অসাধু ব্যবসায়ীদের সময় ও পরিশ্রম লাঘবের দরুন নদীতে ফেলা মুরগীর উৎচ্ছিষ্টের কারনে জীব ও বৈচিত্র চরম হুমকির মুখে পড়ছে। একটি সূত্র বলছে, কিছু অসাধু মুরগী ব্যবসায়ীরা দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে মুরগীর উৎচ্ছিষ্ট নদীতে ফেলতে বেশি উৎসাহী হয়ে উঠছে দৌলতপুর বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দের মাথা ব্যাথা না থাকা, নদী দূষণরোধে তাদের জোরদার উল্লেখযোগ্য ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকার দরুন। নদী দূষণ ও জীব-বৈচিত্র হুমকির মুখে ফেলায় বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও মতামত ব্যক্ত করেছেন পরিবেশবিদগনসহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, নাগরিক নেতা ও সচেতন ব্যক্তিবর্গ। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে, ওই বাজারের অসাধু ব্যবসায়ীরা যারা মুরগীর উৎচ্ছিষ্ট সরাসরি নদীতে নির্বাচারে ফেলে নদী দূষিত ও জীব ও বৈচিত্র হুমকির মুখে ফেলছেন তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, নদী দূষণরোধে সংশিষ্ট বাজারের ব্যবসায়ী সংগঠনকে জোরদার পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানানাও তারা।
পরিবেশবিদ সূত্র মতে, বিভিন্ন অংশের নদীর পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আশঙ্কাজনক মাত্রার দূষিত পানির প্রমান মিলেছে। নদীতে বর্জ্য-আর্বজনাসহ অন্যান্য, তেলযুক্ত পানি নদীতে ভেসে বেড়ানোর দরুন, সূর্যের আলো নদীর পানির নিচের স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। ফলে মাছ ও জলজ প্রানীর স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘিœত হয়, এছাড়াও নদীতে বিভিন্ন উচ্ছিষ্ট, বর্জ্য-আর্বজনা ফেলার দরুন নদী সংকুচিত ও গভীরতা হ্রাস পাচ্ছে, জলজ বাস্তুুন্ত্রের স্বাভাবিক কর্মকা- বাধাঁগ্রস্থ হওয়ায় পানি দূষিত হচ্ছে। তাছাড়া নদীর তীরবর্তী শস্যক্ষেতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গিয়ে সরাসরি ছিঁটকে পড়ছে পানিতে, যে কারণে আজ হুমকির মুখে নদীর জলজ প্রাণী।
শাফিন নামের এক ক্রেতা জানান, দৌলতপুর বাজারে আসলে মাছ কেনার ফাঁকে ভাঙা ঘাটতির কাছে চা খেতে চায়ের দোকানে যায়। বাজারে এসে কয়েক দিন দৃশ্যমান হয়েছে বাজারে উচ্ছিষ্ট নদীতে ফেলছে। এভাবে বর্জ্য ফেলতে নদী হুমকির মুখে পড়বে। এভাবে বাজার সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি নদী বাঁচাতে ব্যবসায়ীদের সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে ৫ নং ওয়ার্ড কঞ্জারভেন্সী সুপার ভাইজার মো. জাকির হোসেন জানান, আমরা রাত্রীকালীন ডিউটিতে মুরগী পট্টির উৎচ্ছিষ্ট নিয়ে আসি বাকি দিনের বেলার সব মুরগীর উচ্ছিষ্ট ব্যবসায়ীরা নদীতে ফেলছেন। এ বিষয়ে দৌলতপুর বাজার বণিক সমিতির সাঃ সম্পাদক নান্নু মোড়ল জানান, মাছ, মাংস ও মুরগী পট্টির ব্যবসায়ী যেন কোনো উচ্ছিষ্ট বর্জ্য-আর্বজনা নদীতে না ফেলে সে বিষয়ে তাদেরকে মৌখিক ও অফিসিয়ালি বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কঞ্জারভেন্সী শাখা অবগত, ওসব বর্জ্য যেন নদীতে না ফেলে সন্ধ্যার সময় বস্তায় ভরে সংশ্লিষ্টদের গাড়ীতে দিয়ে দেয় বলে জানি। যেহেতু নদীতে মুরগীর উচ্ছিষ্ট ফেলা হচ্ছে নতুন করে অভিযোগ পেলাম, যে তদন্ত করে দেখবো কোনো ব্যবসায়ী এহেন কাজের সাথে যুক্ত থাকলে ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কিসিসির) বাজার সুপার শেখ শফিকুল হাসান দিদার জানান, নদী আমাদের সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত প্রাকৃতিক সম্পদ আয়ের অন্যতম উৎস। এটি যদি কেউ দূষিত করতে চাই, তা শক্ত হাতে রোধ করা হবে। দৌলতপুর বাজার হতে নদীতে বর্জ্য ও মুরগীর উচ্ছিষ্ট ফেলা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে তদরকি করে ব্যবস্থা গ্রহন করছি।
এ বিষয়ে নাগরিক নেতা সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা জেলা সভাপতি এড.কুদরত-ই খুদা জানান, নদী বর্জ্য ফেলার জন্য না, বর্জ্য অপসারনের জন্য। যা দেখভালের কেসিসি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, নদী সংরক্ষন কমিটিসহ অন্যান্যদের। নদীতে মানুষ গোসল করে, নদীতে মাছের আবাদ, নদীকে ঘিরে প্রাকৃতিক সম্পদ অর্জন, মানুষের জীবিকা নির্বাহ হয়। নদীতে নিক্ষিপ্ত বর্জ্য নদীসহ জীব-বৈচিত্র ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। কেসিসির এ ব্যাপারে সচেনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহন করা উচিৎ। কেসিসি এ উদ্যোগ গ্রহন করলে নদী দূষন অনেকাংশে রোধ হবে বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসির) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করছি। এ বিষয়ে বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক শরীফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ তদরকি পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করছি।



