দিঘলিয়ায় ভয়াবহ নদীভাঙ্গনে বিলীন আবাসন প্রকল্পের ঘর ঝুঁকিতে সড়ক খেয়াঘাট ও নদীতীর

দিঘলিয়া প্রতিনিধি : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার আাতাই, ভৈরব ও মজুদখালী নদী তীরের বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় অব্যাহত ভাঙনে জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের চন্দনীমহল, কাটাবন, মল্লিকপুর ও মোমিনপুর, গাজীরহাট ইউনিয়নের মাঝিরগাতী, আমবাড়িয়া, আবালগাতী, গাজীরহাট, ডোমরা, কেটলা, বারাকপুর ইউনিয়নের কামারগাতী, বোয়ালিয়ারচর, নন্দনপ্রতাপসহ একাধিক এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোথাও বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, কোথাও সড়ক ও খেয়াঘাট হুমকির মুখে পড়েছে। আবার কোথাও বসতবাড়িসহ ফসলীজমি ও মাছের ঘের হুমকির মধ্যে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ না করা না আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চন্দনীমহল কাটাবন এলাকার সরকারি আবাসন (গুচ্ছগ্রাম) প্রকল্প। ইতোমধ্যে প্রকল্পের একটি পাকা ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া আরও একাধিক বসতঘর ভাঙনের মুখে রয়েছে। যেকোনো সময় সেগুলোও নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এদিকে উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ চন্দনীমহল কাটাবন এলাকা পরিদর্শনে নদী ভাঙ্গন রোধ কল্পে যে জিও ব্যাগ বসানো হয়েছিল তা যত্রতত্র যেখানে সেখানে কারো ব্যক্তি সুবিধার কারণে তুলে ব্যবহার করা হয়েছে এমনটাই দেখা গেছে। আবার নদী ভাঙ্গন রোধ কল্পে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড চন্দনীমহল এলাকায় যে ব্লক তৈরি করে রেখেছে তাও লোকজন তাদের সুবিধার্থে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, আবাসন প্রকল্প সংলগ্ন খেয়াঘাটটিও তীব্র ভাঙনের কারণে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ঘাটের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। চন্দনীমহল এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার নদী তীর বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন সময়ে জোয়ারের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী তীরের ক্ষয় আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। একই সঙ্গে চন্দনীমহলের দ্বিতীয় আবাসন প্রকল্পও নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। এছাড়া মল্লিকপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকাতেও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার সবচেয়ে ভয়াবহ নদীভাঙনের চিত্র দেখা গেছে মোমিনপুর এলাকায়। সেখানে নদীভাঙনের কারণে প্রধান সড়কের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ওই এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে যে অস্থায়ী রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় প্রায় কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, মোমিনপুরের প্রধান সড়কটি দ্রুত টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ করে যান চলাচলের উপযোগী করতে হবে। পাশাপাশি চন্দনীমহল, কাটাবন, মল্লিকপুরসহ নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙন প্রতিরোধে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিও ব্যাগ ফেলার মতো প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের দাবি, ভাঙনের ব্যাপকতার তুলনায় এসব ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। অনেক এলাকায় এখনো স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে গাজীরহাট ও বারাকপুর ইউনিয়নের আতাই ও মজুদখালী নদীর তীরবর্তী অনেকের বসতঘরসহ বসতবাড়ির জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরো অনেকের ঘরবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে। এলাকাবাসীর আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করলে নদীভাঙন রোধের পাশাপাশি বসতবাড়ি, সড়ক, খেয়াঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা সম্ভব হবে।



