স্থানীয় সংবাদ

খুমেক হাসপাতালে ওটি বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে রোগীরা আগামী দু’-তিনদিনের মধ্যে সচল হবে : পরিচালক

শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকা-ের ঘটনায় গেল প্রায় সাত সপ্তাহ বন্ধ রয়েছে ওটি। এতে করে শতশত জরুরী অপারেশন প্রত্যাশিত রোগীরা পড়েছেন ভোগান্তিততে। জানা যায়, গেল ২০ মে ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পুরোনো আইসিইউ ইউনিট সংলগ্ন একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকা-ে স্টোররুমের বিভিন্ন সরঞ্জাম, কিছু সিলিন্ডার ও ভবনের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ওই অংশে ছিল তিনটি অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিট। ফলে হাসপাতালের নিয়মিত অস্ত্রপচার কার্যক্রমে বড় ধরণের প্রভাব পড়ে। এ ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পরিদর্শনে যান। পাশাাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ওটির অংশ সংস্কার করে হাসপাতাল চালুর নির্দেশ দেন । এছাড়া তিনটি অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে দীর্ঘদিন যাবৎ গণপূর্তের সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়ায় অপারেশন থিয়েটর চালু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে জরুরি অপারেশন সেবা চালু রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভর্তি রোগীদের মধ্য থেকে জরুরি রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১৫০০-১৮০০ রোগী হাসপাতালে রোগী ভর্তি থাকে। এর মধ্যে শত শত রোগী জরুরি অপারশনের জন্য হাসপাতালে আসেন। এর মধ্যে দুর্ঘটনার রোগীও থাকে। তিনটি ওটির মধ্যে দুটি ওটি মূলতঃ সচল ছিল। কিন্তু অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সে দুটি ওটি বন্ধ থাকাতে একটু চাপ তৈরী হয়েছে। অনেক রোগী খুলনা বিভাগের অন্য জেলা থেকেও আসেন। হাসপাতালে অপারেশন সেবা পাওয়ার আশায় অনেক রোগী এসে ভর্তি থাকেন। অপারেশন সেবা দেয়ার সক্ষমতার থেকে রোগীর চাপ অনেক হওয়াতে অনেক রোগীকে ৮-থেকে ১০ দিন পর্যন্ত ভর্তি থাকতে হয়। তবে অগ্নিকান্ডের পর ভর্তি রোগী এবং জরুরি রোগীদের দুই দিক মিলিয়ে জরুরি রোগীদের অপারেশনগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কথা বাগেরহাট বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা সোহাগ গাজী তার পিত্তথলিতে পাথর। তিনি অপারেশন করতে হাসপাতালে আসলেও ওটি বন্ধ থাকায় তার অপারেশন হয়নি। আমি বহির্বিভাগে চিকিৎসক রানা স্যারকে দেখিয়েছিলাম তিনি বলেছেন ওটি কার্যক্রম শুরু হলে অপারেশন করবে। আমি একা না আমার মত এরকম শতশত রোগীরা এখনও অপেক্ষা আছে জরুরী অপারেশনের জন্য। বিষয়টি নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, এখন সব কার্যক্রম সম্পর্নূ হয়েছে। অগ্নিকান্ডে জায়গাটিতে রং সহ জায়গাটিতে জীবাণুমুক্ত কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্থ অপারেশন মালামাল থাকা রুমের মালামাল সরিয়ে নিতে সময় লেগেছে বলে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। ওটি থিয়েটারগুলো চালু হতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে । তবে, চলমান জরুরী অটি কার্যক্রম চালু আছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button