খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ভর্তি ১৫৩ : মৃত্যু ১

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
খুমেক হাসপাতালের আরএমও ডা. আরিফ মোহাম্মদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় লিয়াকত আলী (৫৩) নামে এক রোগী মারা গেছেন। রূপসার বাসিন্দা লিয়াকত ১৬ আগস্ট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেদিনই মারা যান। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিদিন খুমেক হাসপাতালে গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে বয়রা ডায়াবেটিক হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক এর সাথে সম্প্রতি ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ে এই পরিকল্পনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। খুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও এনএস স্যালাইনের সংকট নেই বলেও জানান তিনি। চলতি বছর খুমেক হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৭৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৬১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং বর্তমানে ১২৭ জন চিকিৎসাধীন। এ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে ১৭ আগস্ট প্রকাশিত ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১৫৩ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩৩ জন। জেলা ও হাসপাতালভিত্তিক হিসাবে, খুলনায় ৬৪ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ জন, বাগেরহাটে ১৫ জন, সাতক্ষীরায় ১ জন, যশোরে ২০ জন, নড়াইলে ৪ জন, কুষ্টিয়ায় ৮ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন এবং মেহেরপুরে ১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঝিনাইদহ ও মাগুরায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়নি। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নতুন ভর্তি শূন্য। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৩ হাজার ৫৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই সর্বোচ্চ ৩৬ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ওই হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।



