শিবচরে নারী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১ : শিশুকে নদে ফেলে হত্যার স্বীকারোক্তি

মাদারীপুর প্রতিনিধি ঃ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন বাখরেরকান্দি এলাকা থেকে উদ্ধার অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। এ হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ফারুক নিহত ওই নারীর এক বছর বয়সী শিশুসন্তানকে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে হত্যার কথাও প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. সালাহউদ্দীন কাদের। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে অভিযান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি গ্রামের খান বাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদ্রাসার অপর পাশে পরিত্যক্ত স্থানে ঝোপের মধ্য থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে জানা যায়, ওই নারীর নাম শাম্পা খাতুন। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শিবচরে এক্সপ্রেসওয়ের পাশের জঙ্গল থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার নিহত শাম্পা খাতুনের বাবার বরাত দিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার সালাহউদ্দীন কাদের বলেন, গত তিন বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার বড় মেহের এলাকার ছিদ্দিক হাওলাদারের ছেলে শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তার মেয়ে শাম্পার বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান আছে। গত বুধবার তারা খবর পান, তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নাতি আবির নিখোঁজ। মামলা দায়েরের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল)-এর নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও মাদারীপুর র্যাব হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে অভিযান চালায়। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে শিবচরের ওই এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাসা তল্লাশি চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত পোড়ানো ওড়না, নাকফুল, গলার চেইন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত ফারুক খুলনার তেরখাদার জয়সোমা এলাকার রতন মোল্লার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাখরেরকান্দি এলাকায় বাসা ভাড়া করে থাকতেন। এর আগে চোরাই গাড়িসহ আটক হয়েছিলেন তিনি। এই ফারুক মোল্লার সঙ্গে নিহত শাম্পার পরিচয় হয় মাদারীপুর কোর্টে। নিহত শাম্পার স্বামী কারাগারে থাকায় কোর্টে যাওয়া-আসার সুবাদে তাদের পরিচয়ের সূত্রপাত। সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দীন কাদের জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ফারুক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। নিহতের এক বছর বয়সী সন্তানকে আড়িয়াল খাঁ নদের ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে হত্যার কথাও প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা করেন ফারুক। নিহত শাম্পার লাশ ভারী হওয়ায় বাড়ির পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখেন। শিশুটির লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।



