স্থানীয় সংবাদ

দিঘলিয়ায় স্কুলের বাথরুম থেকে হাত-পা-মুখ বাঁধা ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার ঘটনার দুইদিন অতিবাহিত হলেও কোনো রহস্য উন্মোচন হয়নি। দিঘলিয়া থানায় মামলা দায়ের কেউ গ্রেফতার নেই

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ দিঘলিয়ার গাজীরহাটের হাজী নইমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাথরুম থেকে হাতপা ও মুখ বাঁধা দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী নন্দিনী রায়কে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার ঘটনার দুইদিন অতিবাহিত হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এ ব্যাপারে ভিকটিম নন্দিনী রায়ের মাতা শিমুল বাদী হয়ে দিঘলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-৮ তারিখ ২২/০৮/২০২৬ ইং। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল ছুটির পর তার কন্যা নন্দিনী বাথরুমে যায়। বাথরুমে ঢোকার সময় কে বা কারা তাকে ইট দিয়ে পিছন থেকে আঘাত করে। সে কোনো শব্দ করার আগেই তার মুখ আটকে ধরা হয়। এর কিছুক্ষণ পর তাকে অচেতন অবস্থায় হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলা হয়। তাঁকে নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। এদিকে ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় নির্মাণশ্রমিকদের কানে আসে ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ। এরপর শিক্ষকদের জানিয়ে তালা ভেঙে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাকে। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও কোনো রহস্য এখনও উদ্ধার করতে পারে নি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট বাজার সংলগ্ন হাজী নঈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটে যাওয়া অজানা ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুর ২টার দিকে বিদ্যালয়ের ছুটি হয়। শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ত্যাগ করার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা একটি বাথরুমের ভেতর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান। কাছে গিয়ে নারীকণ্ঠের গোঙানি শুনে তাদের সন্দেহ হয়। পরে বাথরুমটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে শ্রমিকরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ছাত্রীটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসক মফিজুর রহমান শাফিনের কাছে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, স্কুল ছুটির পর বাথরুমে ঢোকার সময় পেছন থেকে কেউ তার মেয়ের মাথায় আঘাত করে। পরে অচেতন অবস্থায় তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাথরুমে ফেলে রাখা হয়। মেয়ের শরীরে ইনজেকশন পুশ এবং বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে কাটার চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। কারা এবং কেনো এধরণের ঘটনা ঘটালো সে রহস্য উন্মোচনে আইন প্রয়োগকারী সকল সংস্থার সদস্যদের এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এমনটাই জানিয়েছেন এলাকার বিজ্ঞমহল। দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাওঃ সানোয়ার হোসাইন মাসুম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, স্কুল ছুটির পর বাথরুমের কাছে দুজন ব্যক্তি ওত পেতে ছিল। শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার সময় ছাত্রীটিকে একা পেয়ে তারা বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে মাথায় আঘাত করে অচেতন করার পর মুখে টেপ লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে তাকে ফেলে রাখা হয়। তবে বিদ্যালয়টি ছুটির পর গভীর রাত পর্যন্ত অবাঞ্ছিত লোকের আড্ডার কথা স্যোসাল মিডিয়ায় চাওর হয়েছে। এদিকে ছাত্রীর জ্ঞান ফিরলে ছাত্রীটি শব্দ করতে থাকে। সেই শব্দই শেষ পর্যন্ত নির্মাণশ্রমিকদের কানে পৌঁছায়। তাদের তৎপরতায় দীর্ঘ সময় পর উদ্ধার হয় ছাত্রীটি। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারের পর ছাত্রীটি স্বজনদের কাছে কিছু কথা বলেছে। হামলাকারীদের কাউকে সে চেনে না বলে জানিয়েছে। তবে তার বক্তব্যে কয়েক বছর আগে তার বাবা একটি এনজিও পরিচালনার সময়কার টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ছাত্রীটির সঙ্গে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় তদন্ত চলছে। খবর পেয়ে দিঘলিয়ার মাঝিরগাতী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী, নির্মাণশ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন। দিঘলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার সানোয়ার হোসাইন মাসুম বলেন, কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button