স্থানীয় সংবাদ

ফাটল ধরা দেয়াল, ফুটো টিনের ছাদ; বৃষ্টি হলেই ভোগান্তিতে মুসল্লিরা, নেই পর্যাপ্ত অজু-টয়লেট

মোরেলগঞ্জে ৯৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদে সংস্কারের হাহাকার

এইচ এম শহিদুল ইসলাম মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : ৯৬ বছরের ইতিহাস। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যেখানে মানুষ নামাজ আদায় করেছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কর্মকা-ে মিলিত হয়েছেনÑসেই পশ্চিম বারইখালী জামে মসজিদটি এখন নিজেই অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের এ ঐতিহ্যবাহী মসজিদের দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল, ছাদের টিনে ধরেছে মরিচা, বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় নামাজ আদায়েও তৈরি হচ্ছে দুর্ভোগ। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক শতাব্দী ধরে পশ্চিম বারইখালী এলাকার মানুষের ধর্মীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে মসজিদটি। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা ও মুসল্লির সংখ্যা বাড়লেও মসজিদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সেভাবে হয়নি। ফলে বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের দেয়ালের কয়েকটি অংশে বড় ধরনের ফাটল রয়েছে। মেঝে ও কাঠের বারান্দার বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা উঠে গেছে। ছাউনির টিন দীর্ঘদিনের ব্যবহারে মরিচা পড়ে অনেক জায়গায় দুর্বল ও ফুটো হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে নামাজের জায়গা ভিজে যায়। এতে বর্ষাকালে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। মসজিদটির অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি রয়েছে স্যানিটেশন সংকটও। মুসল্লিদের তুলনায় পর্যাপ্ত টয়লেট ও প্রস্রাব-পায়খানার ব্যবস্থা নেই। অজুর জন্যও প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় বিশেষ করে বয়স্ক মুসল্লিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মসজিদের দরজা-জানালার অবস্থাও ভালো নয়। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে এগুলো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশের দুরবস্থার কারণে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। বর্ষাকালে বৃষ্টি ও ঝড়-বাতাসের সময় এ আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক ফকির বলেন, “অনেকদিন ধরেই মসজিদটির সংস্কার প্রয়োজন। স্থানীয় মুসল্লিরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে যে পরিমাণ সংস্কার দরকার, তা শুধু স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত বড় ধরনের সংস্কার করা প্রয়োজন।” মসজিদের ইমাম ও খতিব মো. তৈয়বুর রহমান তোহা বলেন, মসজিদের ছাদসহ বেশ কয়েকটি অংশের অবস্থা নাজুক। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে নামাজের স্থান ভিজে যায়। পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত অজু ও স্যানিটেশন সুবিধাও নেই। তাই দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় মুসল্লি মো. জাকির হোসেন, সোহেল হাং, নুরুজ্জামান ও মো. মোশারফ হাওলাদার বলেন, “এ মসজিদের সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এত বছর স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় মসজিদটি টিকে আছে। কিন্তু এখন সংস্কারের কাজ এতটাই বড় হয়েছে যে, এককভাবে স্থানীয়দের পক্ষে তা করা সম্ভব হচ্ছে না।”
তারা আরও বলেন, মসজিদের ছাদ ও দেয়াল সংস্কারের পাশাপাশি দরজা-জানালা মেরামত, অজুর স্থান উন্নয়ন এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পশ্চিম বারইখালী জামে মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; দীর্ঘদিন ধরে এটি এলাকার মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকা-েরও অন্যতম কেন্দ্র। বহু প্রজন্মের স্মৃতি ও ঐতিহ্য জড়িয়ে থাকা এই স্থাপনাটি সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাকÑএটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত মসজিদটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নিক। একই সঙ্গে মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত অজুর স্থান, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। তাদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও বিভিন্ন দাতা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে ৯৬ বছরের পুরোনো পশ্চিম বারইখালী জামে মসজিদটি আবারও ফিরে পেতে পারে তার নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ। একই সঙ্গে সংরক্ষিত হবে একটি এলাকার দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button