স্থানীয় সংবাদ

কেসিসি কর্মচারি ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিলের তছরূপকৃত টাকা আদায়ের নির্দেশনার ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ জারি

# কেসিসি’র পত্র কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারী #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্মচারি ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিলের তছরুপকৃত টাকা আদায়ের নির্দেশনা ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ জারি করেছে হাই কোর্ট। গত ১৯ আগস্ট কল্যাণ তহবিলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমানের রিট পিটিশন দাখিলের পর শুনানী আন্তে হাইকোর্ট উক্ত আদেশ দেন। যার আদেশ কপি ও রিটপিটিশনের কপিসহ গত ২০ আগস্ট কেসিসির প্রশাসকের নিকট বিষয়টি অবগত করার জন্য পত্র দেন কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জল কুমার সাহা। ওই পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি উজ্জল কুমার সাহা, সভাপতি খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্মচারী ইউনিয়ন। গত ৩০সেপ্টেম্বর’২১ তারিখে ১২৫৩নং স্মারকে গঠনতন্ত্রের ২০-২১ অনুচ্ছেদে তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনা সুরক্ষা গঠনতন্ত্রের ভারসাম্য নীতি বিদ্যমান ছিল। একে অপরের উপর অর্পিত দায়িত্ব নির্দিষ্ট ছিল। উল্লেখ করে আমাকে একটি পত্র প্রেরণ করা হয়। কিন্তু গঠনতন্ত্রের ২০ এর খ’ ধারায় বোর্ডে সদস্যরা ইউনিয়নের কাছে দায়ী থাকবে, উল্লেখ থাকলেও শুধুমাত্র সভাপতি, সাঃ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষকে দায়ী করে পত্র প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে কল্যাণ তহবিলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান শ্রম অধিদপ্তরে আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৮ অক্টোবর’২১ তারিখে ১৯৩৯নং স্মারকে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক গত ২০ এপ্রিল’২২ তারিখে ৯৯২নং স্মারকে ট্রেড ইউনিয়নের তছরূপকৃত অর্থ ফেরত প্রদান প্রসঙ্গে পত্র প্রেরণ করেন। পত্রে বোর্ড অব ডিরেক্টর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়ী করে ৩৭ লাখ ৯৮ হাজার ৫শ’৪০ টাকার ট্রেড ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিল ফান্ডে জমা করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। যেহেতু কর্মচারী ইউনিয়ন ও কল্যাণ তহবিল শ্রম অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রন করেন, সেই কারণে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের পত্র প্রেরণ করা কতটা যুক্তিসংগত তা বোধগম্য নহে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর’২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ৮ম সাধারণ সভায় কেসিসির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান বিষয়টি সাধারণ সভায় উপস্থাপন করলেও অমিমাংসিত ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। উক্ত সাধারণ সভায় আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম এবং আমার বক্তব্য সাধারণ সভার রেজুলেশনে উল্লেখ আছে। অমিমাংসিত বিষয়কে সিদ্ধান্তে কিভাবে রূপান্তরিত হলো বিষয়টি খুবই আশ্চর্যজনক। অর্থলগ্নী বা অর্থনৈতিক কোন বিষয়ে সাধারণ সভার বিধিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কর্মচারী ইউনিয়নের অভিভাবক হচ্ছে বিভাগীয় শ্রম দপ্তর, এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করছি যে, বিভাগীয় শ্রম দপ্তর খুলনা হতে স্মারক নং-৪.০০০০.৭০৩.৩৪.৩১৫.৭০ (৪র্থ খন্ড) ৯৫২ তারিখ-২০ এপ্রিল’২২ বিভাগীয় পরিচালক শ্রম দপ্তরের দু’জন কর্মকর্তা দ্বারা গঠিত তদন্ত কমিটি কল্যাণ তহবিলের রেজিষ্ট্রার খাতায় ব্যাংক এষ্টেটমেন্ট, আয়-ব্যয়ের নথি, রশিদ বহি, অডিট রিপোর্টসহ সকল কাগজপত্র যাচাই বাছাই সাপেক্ষে ৩৭,৯৮,৫৪০ টাকা আত্মসাতের তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছেন এবং উক্ত টাকা আদায়ের জন্য কে,সি,সি, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কল্যাণ তহবিলের বোর্ড অব ডাইরেক্টর (যার সদস্য সংখ্যা-১১) দের দায়ী করে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেছেন। যার রেজিঃ নং- খুলনা-২৫, স্মারক নং-২০২২ তারিখের ৪০,০২,০০০০,১০৩,৫৪.৫১.৫৬.৭০(৪র্থ খন্ড)/৯৫২ স্মারক মোতাবেক ৩৭,৯৮,৫৪০ টাকা পরিশোধের জন্য কে.সি.সি’র সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কর তাজুল ইসলাম গত ১ জুন’২২ তারিখে ১১০৯নং স্মারকে ৩৭,৯৮,৫৩০ টাকার সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধের জন্য পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু তিনি বোর্ড অব ডিরেক্টরের সদস্যাদের নাম উল্লেখ করেননি। বিধায় কল্যাণ তহবিলের টাকা সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি।”কল্যাণ তহবিলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমান তৎকালিন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। কল্যাণ তহবিলের কোন টাকা তছরূপ হয়নি, পুনরায় অডিট করা প্রয়োজন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে সাইফুর রহমান পুনরায় অডিট করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবরে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে মোঃ সাইফুর রহমান উল্লেখ করেন। কল্যাণ তহবিলের কোন টাকা তছরূপ হয়নি। লভ্যাংশ অতিবিতরনের কারনে মূলধন ঘাটতি হয়েছে। কে.সি.সি,সাবেক সচিব আজমুল হকের মৌখিক নির্দেশে সাইফুর রহমানের পুণঃ নিরীক্ষা আশরাফ উদ্দিন এন্ড কোং এর প্রতিবেদন আজ পর্যন্ত পর্যালোচনা করে সমাধান করা হয়নি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কেসিসি সারক নং-৪৬.১২.০০০০.০০৯.০৪.০০৪.২৫-১১৬৯/১ তাং-৪ডিসেম্বর’২৫ তারিখে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রেরিত পত্রের কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ করে খুলনা সিটি কর্পোশেন কর্মচারী ইউনিয়নের সাংগঠিক সম্পাদক মোঃ সাইফুর রহমান হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন, যার নং-১০৬১২/২০২৬। অত্র মামলাটি গত ১৯ আগস্ট’২৬ তারিখে বিচারক রাজিয়াল জলিল এবং দেবাশীষ রায় চৌধুরী (মেইন বিল্ডিং কোর্ট নং-২০) এ শুনানী অন্তে বিচারক গত ৪ডিসেম্বর’২৫ তারিখে ১১৬৯/১ নং পত্রের কার্যকরিতা আগামী ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন এবং উক্ত পত্র কেন অবৈধ ঘোষনা করা হবে না এই মর্মে রুল জারী করেন এবং গত ১৮ আগস্ট’২৬ তারিখে শ্রম অধিদপ্তরের ৮০০নং স্মারকে গত ২০ এপ্রিল’২২ তারিখের ৯৫২নং স্মারক মোতাবেক এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ১০ জুন’২২ তারিখের ১১০৯ স্মারক মোতাবেক খুলনা সিটি কর্পোরেশন কর্মচারী ইউনিয়ন কল্যাণ তহবিলের মূলধন ঘাটতির সমুদয় টাকা বোর্ড অব ডিরেক্টর, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক (সংশ্লিষ্ট) ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে কল্যাণ তহবিলের তছরূপকৃত অবশিষ্ট টাকা কল্যাণ তহবিলের ফান্ডে জমা প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করেন। হাইকোর্টের রিট মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়। উজ্জল কুমার সাহা বলেন, কেসিসির সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা যে আইনে নিদের্শনা দিয়েছেন তা কিভাবে এখন বর্তমান অফিসাররা মানছেন না। তাছাড়া কর্মচারী ইউনিয়নের অভিভাবক হচ্ছে বিভাগীয় শ্রম দপ্তর। তাদের আদেশ নিষেধ যা রয়েছে তা কর্মচারি ইউনিয়ন অক্ষরে অক্ষরে মানছে। বিভাগীয় শ্রম দপ্তরকে পাশকাটিয়ে কেসিসি যেহেতু টাকা পরিশোধের জন্য পত্র দেয়। ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান ওই পত্রের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করার পর আদালত পত্রের কার্যকারিতা ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেন। কেসিসির সচিব মোঃ রেজা রশীদ আদালতের স্থগিতাদেশের কপি পেয়েছেন স্বীকার করে বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াইছে। এখন বিষয়টি আদালতেই সমাধান হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button