স্থানীয় সংবাদ

খুলনা বিভাগে একদিনে ৮১ সন্দেহজনক হাম রোগী : নিশ্চিত আক্রান্ত ৩৬৫

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা বিভাগে হামের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৮১ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৩ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম বা সন্দেহজনক হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের ২৪ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রকাশিত হামের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বাগেরহাটে ১৯ জন, ঝিনাইদহে ৯ জন, খুলনায় ১৫ জন, কুষ্টিয়ায় ৮ জন, মাগুরায় ১৫ জন, মেহেরপুরে ৩ জন, নড়াইলে ৮ জন এবং সাতক্ষীরায় ৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা ও যশোরে এ সময়ে নতুন কোনো সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। একই সময়ে বাগেরহাটে ১৬ জন, চুয়াডাঙ্গায় কোনো রোগী না থাকলেও, যশোরে কোনো নতুন ভর্তি না হওয়া, ঝিনাইদহে ৪ জন, খুলনায় ১৪ জন, কুষ্টিয়ায় ১৫ জন, মাগুরায় ১০ জন, মেহেরপুরে ১ জন, নড়াইলে ৭ জন এবং সাতক্ষীরায় ৬ জনসহ মোট ৭৩ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
চার মাসে ৯ হাজার ৮০১ সন্দেহজনক রোগী :
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৪ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮০১ জনে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৩৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ৯ হাজার ৮৪ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে সন্দেহজনক হামে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৬৫ জন। তবে নিশ্চিত হাম আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিবেদনে শূন্য দেখানো হয়েছে। জেলা ভিত্তিক হিসাবে এ সময়ে সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে কুষ্টিয়ায়Ñ২ হাজার ৪৬২ জন। এরপর খুলনায় ১ হাজার ৬০৮ জন, মাগুরায় ১ হাজার ৪৮২ জন, যশোরে ৮৫১ জন, ঝিনাইদহে ৭৯৯ জন, নড়াইলে ৬৭৪ জন, মেহেরপুরে ৫৮৭ জন, বাগেরহাটে ৫৬৯ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৫১১ জন এবং সাতক্ষীরায় ২৫৮ জন।
নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে নড়াইলÑ৮৫ জন। এরপর বাগেরহাটে ৭৪ জন, যশোরে ৫৮ জন, খুলনায় ৪৭ জন, মাগুরায় ২৭ জন, সাতক্ষীরায় ২৪ জন, কুষ্টিয়ায় ২৩ জন, ঝিনাইদহে ১৭ জন, মেহেরপুরে ১০ জন এবং চুয়াডাঙ্গায় কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি।
দেশব্যাপীও হামের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি কিছুটা বেশি থাকলেও একই সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button