যশোর সদরে কাগজে কলমে বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলারগনের গুদাম আছে : বাস্তবে কি ?

# যশোর সদরে আমনের ভরা মৌসুমে সরকার কর্তৃক
ন্যায্য মূল্যে সার কৃষকের নাগালের বাইরে #
মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি ঃ আমনের ভরা মৌসুমে সরকার কর্তৃক ন্যায্য মূল্যে যথা সময়ে পটাশ,ইউরিয়া,টিএসপি সার না পেয়ে হতাশ মফিজউদ্দীন মোল্যা। যশোর সদর উপজেলার ৪ নং নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ছোট শেখহাটী পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত মুনসুর আলীর মোল্যার ছেলে তিনি। নিজের সামান্য ও বাকী বিভিন্ন জমির মালিকের কাছ থেকে বর্গা/ ভাগে ১১ বিঘা জমি নিয়ে আমনের ভরা মৌসুমে চাষাবাদ শুরু করেছেন তিনি। আমনের জন্য উপযুক্ত জমি কাঁদামাটিতে বীজতলা তৈরী করে প্রায় ১ মাস আগে চাষাবাদ শুরু করেন । শুধু ধানের বীজ লাগালে হবে না তাই তিনি আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশায় সরকার কর্তৃক ন্যায্য মূল্যে সার পাওয়ার স্বপ্নে কখনও ছোটেন তার বাড়ি থেকে প্রায় পৌনে ১ কিলোমিটার বাহাদুরপুর গ্রামের সারসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রেতা আশরাফ আবার কখনও কম মূল্যে সার কিনতে হাশিমপুর বাজার ও শেখহাটি জামরুল তলা বাজারে সারের ডিলারের দোকানে। তিনি এভাবে আমন ধানের ফসল ঘরে ওঠার টার্গেট নিয়ে এখানে ওখানে ছুটে বেড়াচ্ছেন। তারপরও যথা সময় টিএসপি,পটাশ ও ইউরিয়া,ডিএপি সার পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, বিগত ১০ বছর পূর্বে উপজেলার কৃষি অফিসের করিম নামে এক ব্লক সুপার ভাইজার ছিল। তিনি তার ছোট শেখহাটী পশ্চিম পাড়ার গ্রামের কৃষকেরা কাছে কখন কোন সার মিলবে কিভাবে ধানের ফলন ভাল হয় এমন পরামর্শ দিতেন। কৃষি অফিসের করিম নামে ব্লক সুপার ভাইজার না থাকায় কেউ খোঁজ রাখেন না। ছোট শেখহাটীসহ আশপাশ এলাকার কৃষকের কাছে যশের জেলা ও সদর উপজেলার কৃষি অফিসের কোন কর্মকর্তা ও বা কর্মচারীদের সাক্ষাত মেলেনা। অথচ সরকার কৃষিখাতে বাজেটে বিশাল ভূর্তকি রাখেন। মফিজ উদ্দীন মোল্যা মতো ছোট শেখাহাটী এলাকায় কৃষক সবুজ ১২/১৩ বিঘা,কৃষক শহিদ ৮/১০বিঘা জমিতে এবার আমনের চাষাবাদ শুরু করেছেন। তারাও ন্যায্য মূল্যে সার চান। সরকার কর্তৃক ন্যায্য মূল্যে সার বাজার থেকে ৫০ কেজি বস্তা প্রতি ১শ’ থেকে তার অধিক মূল্য দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছে তাছাড়া সরকার কর্তৃক বরাদ্ধকৃত সার কোথায় যাচ্ছে এমন খবর কেউ রাখেন না।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে, যশোর সদর উপজেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ড্রাষ্টিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ডিলার আছে ২৮জন, বাংলাদেশ এগ্রিক্যালচার ডেভেলভমেন্ট (বিএডিসি)র ডিলার আছে ২৫জন। এর মধ্যে ২৮ জন বিসিআই ডিলারগন,টিএসপি,পটাশ ও ডিএপি সার প্রতিমাসে বরাদ্ধ পায় ও বিএডিসি থেকে ২৫জন ডিলার টিএসপি,পটাশ ও ডিএপি সার বরাদ্ধ পান। সার বরাদ্ধ পাওয়ার পর বরাদ্ধকৃত সার উত্তোলন করে স্ব-স্ব ইউনিয়নে নিজস্ব সারের গুদামে রাখবেন। এর পর উপজেলার কৃষি অফিসার ডিলারগনের গুদামে যেয়ে উত্তোলনকৃত সারের লট মিলিয়ে এয়াইভের ও স্টর রেজিষ্টারে স্বাক্ষর করে বিক্রির অনুমোদন দেবেন। অথচ এ ধরনের কার্যক্রম উপজেলা কৃষি অফিসার তালিকা ভূক্ত ডিলারের সারের গুদামে না যেয়ে নিজের উপজেলা পরিষদের অফিসে সারের ডিলারগণকে ডেকে তাদের রেজিষ্ট্রারে ও এরাইভেলে স্বাক্ষর করেন। বিসিআইসি ডিলারগণ বিক্রির ক্ষেত্রে উত্তোলণকৃত অর্ধেক সার তার গুদামে রেখে খুচরা মূল্যে ইউরিয়া প্রতি কেজি ২৭ টাকা,টিএসপি প্রতি কেজি ২৭ টাকা, এমওপি (পটাশ) প্রতি কেজি ২০ টাকা ও ডিএপি প্রতি কেজি ২১ টাকা দরে কৃষকদের কাছে বিক্রি করবেন ও বাকী অর্ধেক সার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ইউনিয়নের ৩ ওয়ার্ডে বিক্রয় কেন্দ্রে পৌছে দেবেন। সেক্ষেত্রে পৌছানোর খরচ বিসিআইসি ডিলার নিজেই বহন করবেন। সার বিক্রয় কেন্দ্রে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশী দামে বিক্রি করতে পারবেন না।এসব কার্যক্রম উপজেলার কৃষি অফিসের খাতা কলমে ও সরকারে তালিকাভূক্ত সারের ডিলারগনের খাতা কলমে রয়েছে বাস্তবে নেই। অপরদিকে, যশোর সদরের বিএডিসি’র ২৫জন নির্ধারিত ডিলার আছেন তারা কে কোথায় তাদের গোডাউন আছে এবং কখন বরাদ্ধকৃত সার তোলেন ও কোথায় বিক্রি করে তার কোন সঠিক তদারকি নেই। সূত্রগুলো দাবি করেছেন, উপজেলার কৃষি অফিসারের যথাযথ তদারকির অভাবে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সারের ডিলারগন সার উত্তোলন করলেও তা কি করা হচ্ছে এমন খবর তিনি রাখেন না। সূত্রগুরো বলেছেন, অধিকাংশ ডিলারগণের গোডাউন আছে কাগজে কলমে বাস্তবে নেই এমন অভিযোগ করেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন কৃষক। সেক্ষেত্রে বিএডিসি সারের ডিলার যশোর সদর উপজেলার লাউখালীর গোর্কি,পাঁচবাড়ীয়ার শামীম ও শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়ের হীরা নাম উঠে এসেছে । তাছাড়া,সরকার কর্তৃক কৃষকদের মাঝে প্রনোদনা দেয়ার বাজেট রাখা হয়। আসলে এ অর্থ কোন কৃষক পান এমনও অভিযোগ করেছেন রোদ,বৃষ্টিতে একটাই উদ্দেশ্য ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা প্রকৃত কৃষকগন।



