স্থানীয় সংবাদ

খুলনা বিভাগে হামের ভয়াবহ চিত্র ৫ মাসে সন্দেহজনক রোগী ৯৮৭৫ : মৃত্যু ৩৪ : নিশ্চিত হাম ৩৬৫

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা বিভাগে হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৭৪ জনের মধ্যে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে ৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৮ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম বা সন্দেহজনক হামজনিত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের ২৫ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রকাশিত জেলার তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে ২৫ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মোট ৯ হাজার ৮৭৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ হাজার ৪০৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ৯ হাজার ১৩২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ সময়ে সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। তবে একই সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৩৬৫ জনের মধ্যে। নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য বলে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ সন্দেহজনক রোগী :
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে কুষ্টিয়ায়Ñ২ হাজার ৪৭৫ জন। এরপর খুলনায় ১ হাজার ৬২১, মাগুরায় ১ হাজার ৪৯২, যশোরে ৮৫৬, ঝিনাইদহে ৮০৭, নড়াইলে ৬৮১, মেহেরপুরে ৫৮৮, বাগেরহাটে ৫৭৯, চুয়াডাঙ্গায় ৫১৫ এবং সাতক্ষীরায় ২৬১ জন। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে নড়াইলÑ৮৫ জন। এছাড়া বাগেরহাটে ৭৪, যশোরে ৫৮, খুলনায় ৪৭, মাগুরায় ২৭, কুষ্টিয়ায় ২৩, ঝিনাইদহে ১৭, মেহেরপুরে ১০, সাতক্ষীরায় ২৪ এবং চুয়াডাঙ্গায় কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি।
একদিনে নতুন সন্দেহজনক রোগী ৭৪ :
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাভিত্তিক হিসাবে খুলনা ও কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ ১৩ জন করে সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে। বাগেরহাট ও মাগুরায় ১০ জন করে, ঝিনাইদহে ৮, নড়াইলে ৭, যশোরে ৫, চুয়াডাঙ্গায় ৪, সাতক্ষীরায় ৩ এবং মেহেরপুরে ১ জনের মধ্যে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে কুষ্টিয়া, খুলনা ও মাগুরায় আক্রান্তের সন্দেহজনক সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সন্দেহজনক হাম ও নিশ্চিত হামÑদুটি আলাদা হিসাব। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, খুলনা বিভাগে এখন পর্যন্ত হামের সন্দেহজনক রোগী প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু এবং ৩৬৫ জনের হাম নিশ্চিত হওয়ায় রোগটি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button