খুলনা বিভাগে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

# ৬ মাসে সন্দেহজনক রোগী প্রায় ১০ হাজার, মৃত্যু ৩৪ :
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা বিভাগে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভাগে ৯ হাজার ৯৮২ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬৫ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হামজনিত ৩৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের ২৭ আগস্ট সর্বশেষ পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ৪০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে চিকিৎসা শেষে ৪৫ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী কিংবা হামজনিত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়ায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক রোগী :
১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে কুষ্টিয়ায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ। জেলাটিতে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৯৫ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
এরপর খুলনায় ১ হাজার ৬৪৮, মাগুরায় ১ হাজার ৫১৪, যশোরে ৮৫৭, ঝিনাইদহে ৮১৭, নড়াইলে ৬৯১, মেহেরপুরে ৫৯১, বাগেরহাটে ৫৮৩, চুয়াডাঙ্গায় ৫১৫ এবং সাতক্ষীরায় ২৭১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
নিশ্চিত হাম রোগী ৩৬৫ :
বিভাগে এ পর্যন্ত ৩৬৫ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে নড়াইলে সর্বোচ্চ ৮৫ জন, বাগেরহাটে ৭৪, যশোরে ৫৮, খুলনায় ৪৭, মাগুরায় ২৭, সাতক্ষীরায় ২৪, কুষ্টিয়ায় ২৩, ঝিনাইদহে ১৭ এবং মেহেরপুরে ১০ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা শূন্য।
সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু ৩৪
হাম পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো মৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামজনিত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে খুলনায় সর্বোচ্চ ১৭ জন, কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, ঝিনাইদহে ২ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১ জন এবং মেহেরপুরে ১ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। তবে একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য দেখানো হয়েছে।
এক দিনে ৪০ জন ভর্তি :
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে ৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে খুলনায় ১৫, মাগুরায় ১৩, নড়াইলে ৬, কুষ্টিয়ায় ৩, সাতক্ষীরায় ২ এবং মেহেরপুরে ১ জন ভর্তি হয়েছেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৪৫ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা ও কুষ্টিয়ায় ১৫ ও ১৩ জন, মাগুরায় ১১ জন, মেহেরপুরে ৩ জন এবং সাতক্ষীরায় ৩ জনসহ বিভিন্ন জেলার রোগীরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিভাগে প্রায় ১০ হাজার সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হাম প্রতিরোধে টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত নজরদারি ও রোগীর তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি হাম প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



