সেনা বাহিনীতে চাকুরি দেয়ার কথা বলে প্রতারণা

# অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকে কারাদন্ড ও অর্থদ- প্রদান #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ সেনা বাহিনীতে চাকুরি দেয়ার কথা বলে প্রতারণা করার দায়ে আদালত অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শেখ মাসুদ উদ্দীনকে এক বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৯ লাখ ২০ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা করেছে। অনাদায়ে আরোা ৬মাসের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতের বিচারক এ রায় দেন। এ সময় আসনামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আপিল করার শর্তে আদালত আসামীকে জিম্মাদারিতে মুক্তি দেয়। মামলার বাদী উজ্জল কুমার সাহা এ তথ্য জানান। আসামী বাদীর ছেলেকে সেনাবাহিনীতে চাকুরী দেয়ার কথা বলে কয়েক দফা টাকা নিয়েছে। আসামী মোট ৯ লাখ ২০ হাজার ৫শ’ টাকা গ্রহণ করে এ বাবদ। তবে টাকা ফেরৎ দিতে না পারায় বাদী গত ১১/১০/২২ তারিখে খুলনার চীফ জুডিশিয়াল আদালতে ৪০৬/ ৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালত উপরোক্ত রায় প্রদান করে। মামলায় উল্টেলখ করা হয়, “বাদী একজন সহজ, সরল, আইনমান্যকারী নাগরিক। অপর পক্ষে আসামী ঠক, প্রতারক, আইন অমান্যকারী, পরসম্পদ লোভী ব্যক্তি। অত্র মামলার বাদী ও আসামী একই এলাকার প্রতিবেশী। আসামী সেনাবাহিনীতে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। আসামী বাদীকে প্রস্তাব দেন যে দীর্ঘ চাকুরী জীবনে তার সমমর্যাদার অফিসার ও উচ্চ পদস্থ অফিসারের সহিত তার সুসম্পর্ক রয়েছে। সে ইচ্ছা করলে তাদের মাধ্যমে বাদীর পুত্র সজলকে সেনাবাহিনীতে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। সেই ক্ষেত্রে বাদীকে আসামী জানান যে, উচ্চ পদস্থ অফিসারদেরকে দশ লক্ষ টাকা প্রদান করলে চাকুরী দেওয়া সম্ভব। সহজ সরল বাদী আসামীর প্রস্তাবে বিশ্বাস স্থাপন করে তার প্রস্তাবে সম্মতি দেন। অতপর আসামী বাদীর পুত্র সজলকে ফকিরহাটে সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়া চলাকালীন অবস্থায় আসামীর কথিত সহকর্মীর কাছে নিয়ে যান এবং বাদীর পুত্র সজল’কে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব বলে জানান। এমতবস্থায় গত ২১ জুলাই’২২ তারিখে সেনাবাহিনীতে চাকুরীর জন্য তারিখ নির্ধারিত হয়। প্রাথমিক খরচ বাবদ আসামী গত ইংরাজী ২২ জুলাই’২২ তারিখে বাদীর নিকট হতে অগ্রীম বাবদ ৭০,৫০০ টাকা এবং ২০ জুলাই’২২ তারিখে ৩ লাখ টাকা বাদীর নিকট হতে গ্রহন করেন। বাকী টাকা চাকুরীতে যোগদানের পর দিতে বলেন। গত ২১ জুলাই’২২ তারিখে বাদীর পুত্র সজলকে আসামী মোটর সাইকেল যোগে জাহানাবাদ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে চাকুরীর জন্য হাজির করে। কিন্তু চাকুরি দিতে ব্যর্থ হয়। অতপর বাদী আসামীর সহিত যোগাযোগ করলে আসামী বিষয়টি দেখছেন বলে বাদীকে জানান। কিছুক্ষন পর আসামী বাদীকে জানান যে, বাকী টাকা দিলে ২১ জুলাই’২২ তারিখে চাকুরী না হলেও আগামী ৪/৫ দিনের মধ্যে রিকল এর মাধ্যমে বাদীর পুত্র সজলকে সেনাবাহিনীতে ভর্তি করায়ে দিবেন। সেক্ষেত্রে গত ২১ জুলাই’২২ তারিখ বিকাল ৪টার মধ্যেই আসামীকে বাকী টাকা পরিশোধ করতে হবে। বাধ্য হয়ে পুত্রের চাকুরীর জন্য বাদী তার নিজ নামীয় রূপালী ব্যাংক, রাজাপুর শাখার হিসাব হতে নগদ ২ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব হতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করে জাহানাবাদ সেনানিবাসে ডিগয়ে আসামীকে প্রদান করেন। আসামী বাদীর পুত্র সজলকে চাকুরী প্রদানে ব্যর্থ হন। অতপর আসামী গত ইংরাজী ২০ আগস্ট’২২ তারিখের মধ্যে বাদীর প্রদেয় সমুদয় পাওনা নয় লক্ষ বিশ হাজার পাঁচশত টাকা ফেরত পরিশোধ করবেন মর্মে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে স্বীকার ও অঙ্গিকার করে ৩০০/টাকার নন-জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকার এবং স্বাক্ষর প্রদান করেন। নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর বাদী আসামীর নিকট বারং বার পাওনা টাকা চাইলে বিভিন্ন টালবাহানা করে গত ২২আগস্ট’২২ তারিখে কোন টাকা ফেরত দিবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। আসামী বাদীকে প্রতারিত করিবার উদ্দেশ্যে তার পুত্র সজলকে সেনাবাহিনীতে চাকুরী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে বিভিন্ন মেয়াদে নগদ ও ব্যাংক মাধ্যমে টাকা গ্রহন করে দন্ডবিধির ৪০৬/৪২০ ধারার অপরাধ করেছে।”



