দৌলতপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর মাছের ঘেরে মিলল যুবক ‘রনির’ মরদেহ

# গলায় রশির দাগ, পেট ফাঁড়া ও হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ
# প্রাথমিক সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর
# আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন, জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন বাইপাস সড়ক সংলগ্ন কার্তিককূল জনৈক ব্যক্তির মাছের ঘের হতে ভাসমান অবস্থায় নিখোঁজের তিন দিন পর বুধবার (২৬ আগষ্ট) সন্ধ্যায় মনিরুল ইসলাম (রনি) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রনি দৌলতপুর থানাধীন মহেশ^রপাশা পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত: মোশারেশ হোসেনের ছেলে এবং পেশায় একজন দিনমজুর।
পুলিশ জানায়, নিহত ওই যুবক গত ২৩ আগষ্ট নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর দিন নিহতের মা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রী করেন। পুলিশ আশপাশের থানায় বেতার বার্তাসহ তার সন্ধ্যানের বিষয়ে নানামুখি আইনগত কার্যক্রম চলমান রাখে। সর্বশেষ, বুধবার (২৭ আগষ্ট) সন্ধ্যায় পুলিশ জানতে পারে থানাধীন বাইপাস সড়ক সংলগ্ন কার্তিককূল জনৈক ব্যক্তির মাছের ঘেরে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ দৃশ্যমান হয়েছে। ওই খবরে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষনিক পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছান এবং নিখোঁজের তিন দিন পর মনিরুল ইসলাম (রনি) নামের নিখোঁজ ওই যুবকের মরদেহ শণাক্তপূর্বক উদ্ধার করেন।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক সুরতহালে দেখা গেছে নিহতের গলায় রশি দিয়ে চেপে ধরার দাগ, পেট ফাঁড়া, দু’হাত ও পা পিঠমোড়া দিয়ে বাঁধা এবং বালি ভরা বস্তা হাতের সাথে বাঁধা অবস্থায় ভাসমান ছিল, লাশটি ফুলেও উঠেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারনা, পূর্ব শক্রতার জের ধরে এই হত্যাকা-টি ঘটিয়েছে দুবৃর্ত্তরা এবং লাশের ধরন দেখে নিখোঁজের দিনই এই হত্যাকা-টি ঘটানো হতে পারে এবং লাশ গুমের চেষ্টা করেছে অপরাধীরা বলেও পুলিশের প্রাথমিক ধারনা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) দুপুরে প্রাথমিক সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, নিহতের পরিবারের কাছ থেকে এজাহার পাওয়ার পর পরবর্তী আইগত পদক্ষেপ গ্রহন হবে। ইতোমধ্যে হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধীক টিম কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকা-ের প্রকৃত রহস্য উৎঘটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানায় পুলিশ।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে থেকে দায়িত্বপালন করা কার্তিককূল ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই সুফল রায় জানান, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের উদ্ধার কার্যক্রম অব্যহত রাখি এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করি। প্রাথমিক সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) দুপুরে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঃ মোরাদুল ইসলাম জানান, দৌলতপুর থানা এলাকার কার্তিককূল নামক জায়গার একটি মাছের ঘের হতে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করি। প্রাথমিক সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের কাছ থেকে এজাহার পাওয়ার পর পরবর্তী আইগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকা-ের প্রকৃত রহস্য উৎঘটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হবে পুলিশ বলে ও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



