বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার ও কল্যাণের- রূপসায় এমপি আজিজুল বারী হেলাল

রূপসা প্রতিনিধি : খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, বিএনপি গণমানুষের দল। বিগত দিনে বিএনপি সবসময় জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছে। এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি রাজপথে থেকেছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন, মামলা হামলার শিকার হয়েছেন, তবুও তারা রাজপথ থেকে সরে যাননি।বিএনপির রাজনীতি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের রাজনীতি নয়। বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার ও কল্যাণের রাজনীতি। কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা চিন্তা করেই বিএনপি রাজনীতি করে। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বিএনপির পথচলা। তিনি বলেন, জনগণই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই জনগণকে বাদ দিয়ে বিএনপির রাজনীতি হতে পারে না। আমাদের নেতাকর্মীদের সবসময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে। মানুষের সুখের সময়ে যেমন পাশে থাকতে হবে, তেমনি বিপদে-আপদে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের সমস্যা শুনতে হবে, তাদের কষ্ট বুঝতে হবে এবং সাধ্য অনুযায়ী সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে হবে।তিনি বলেন, রাজনীতি মানে শুধু সভা-সমাবেশ করা কিংবা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নয়। রাজনীতির প্রকৃত অর্থ হচ্ছে মানুষের জন্য কাজ করা। মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে এই বিষয়টি মনে রাখতে হবে। আমাদের আচরণ, কর্মকা- ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্য দিয়েই বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।তিনি আরও বলেন, তৃণমূল হচ্ছে বিএনপি’র প্রাণ। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আরও সুসংগঠিত করতে হবে। নিজেদের মধ্যে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। কোনো বিভেদ বা ব্যক্তিগত স্বার্থ যেন দলের বৃহত্তর স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সামনে অনেক দায়িত্ব। জনগণ বিএনপির দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। সেই প্রত্যাশার মর্যাদা আমাদের রাখতে হবে। দলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে শৃঙ্খলা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার মধ্যে বসবাস করছে। এই এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য, কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজন ও দাবিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এলাকার উন্নয়ন শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও জনগণের পাশে থেকে উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হবে। বিএনপি ক্ষমতার রাজনীতি করতে চায় না, বিএনপি জনগণের সেবার রাজনীতি করতে চায়। জনগণ যদি বিএনপিকে দায়িত্ব দেয়, তাহলে জনগণের দেওয়া সেই দায়িত্বকে আমানত হিসেবে নিয়ে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে, নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে, ন্যায়বিচার পাবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে নিতে পারবে। তরুণ সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে, শ্রমিক তার শ্রমের মর্যাদা পাবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করলেই হবে না, বিএনপির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম, বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম এবং দলের নেতাকর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। দলকে আরও শক্তিশালী করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মরহুম বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল প্রতিযোগিতার মতো সামাজিক ও ক্রীড়ামূলক আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা সম্ভব। তাই রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকা-েও বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা মানুষের কাছে যাব, মানুষের কথা শুনব এবং মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেব। জনগণের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে আত্মার সম্পর্ক। কোনো স্বার্থের বিনিময়ে নয়, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়েই বিএনপিকে এগিয়ে নিতে হবে। বিএনপি অতীতেও জনগণের পাশে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবে। গতকাল (২৮ আগস্ট) বিকেলে রূপসা উপজেলা বিএনপির আয়োজনে রূপসা সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, মরহুম বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন, বর্ধিত সভা, এলাকার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল,বিএনপি নেতা অধ্যাপক বাবুল হোসেন। রূপসা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিকের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা চৌধুরী কাওসার আলী।আরও বক্তব্য দেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক উজ্জল সাহা, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব শেখ আবু সাঈদ, জেলা বিএনপির সদস্য আরিফুর রহমান, আব্দুস সালাম মল্লিক, মোল্লা এনামুল কবীর, আছাফুর রহমান, চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, জেলা তাঁতি দলের আহ্বায়ক লিটন তালুকদার, সদস্য সচিব মাহমুদুল আলম লোটাস, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা তুহিন, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব রকিব উদ্দীন মল্লিক, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সেতারা বেগম, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহনাজ ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র, জেলা মহিলা দলের নেত্রী মর্জিনা বেগম, শারমিন আক্তার আখি, কোহিনুর বেগম, ফাতেমা খাতুন, বিথী আক্তার, খান আনোয়ার হোসেন, শরিফুল ইসলাম বকুল, শাহাবুদ্দিন ইজারাদার, মিকাইল বিশ্বাস, মনিরুল গাজী, তরিকুল ইসলাম রিপন, জাকারিয়া কাজী, জান্নাতুল নাঈম, আব্দুল্লাহ জমাদ্দার প্রমুখ।



