দৌলতপুরে নিখোঁজ ছেলের হত্যা মামলার বাদী হলেন ‘মা’ : আটক নেই

# হত্যা ও লাশ গুমের অপরাধে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে মামলা
# পুলিশ বলছে : মামলা তদন্তনাধীন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমরা কাজ করছি
# পরিবারের দাবি : দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের আটক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর মহেশ^রপাশা পশ্চিমপাড়া ঘোষপাড়া এলাকার মৃত: মোশারেফ হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলাম (রনি)’র হত্যাকা-ের ঘটনায় নিহতের মা বাদী শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) সকালে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা ও গুমের চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-১৭, তাং- ২৮ আগষ্ট ২০২৬ ইং)। এ রিপোর্টার লেখা পর্যন্ত ওই হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িত এখন পর্যন্ত কেউ আটক নাই, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুফল রায়। পুলিশ বলছে, নিহত নিখোঁজ যুবকের হত্যাকা- ও গুমের চেষ্টার ঘটনায় ইতোমধ্যে নিহতের মা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে আলামত, তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে হত্যাকা-ের রহস্য উৎঘটরে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া খুনের ঘটনায় জড়িতের গ্রেপ্তারে পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ করেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনের প্রকৃত কারণ, রহস্য উৎঘটন ও জড়িতদের শণাক্ত, আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে পুলিশ। বিপরীতে নিহতের পরিবারের দাবি, রনি দিনমজুরের কাজ করতো। যখন যে কাজ পেতে সেই কষ্টের উপাজর্নের টাকা দিয়ে সাধারনভাবে জীবন-যাপন করতো। অসহায় রনিকে কারা হত্যা করলো? কি কারণে ওকে হত্যা করা হলো? কার শক্র ছিল ‘ও,। হত্যাকারীদের দেখতে চাই। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে নিহতের মা ও মামলার বাদী জানান, আমার আদরের দুই সন্তানের মধ্যে রনি একমাত্র পুত্র সন্তান। ওর বাবা মারা যাওযার পর ও আমাদের পরিবারের ভরসাস্থল। আমরা খুব সাধারন ভাবে জীবন-যাপন করি। ওর ১৬ মাসের একটি ফুটফুটে বাচ্চা রয়েছে, বাচ্চাটি এতিম হয়ে গেল, ওর ভবিষৎটাও নষ্ট হয়ে গেল। ছেলে নিখোঁজ ছিল, পরে পেলাম ওর নিথর দেহ, থানায় মামলা করেছি। আমার আদরের সন্তানকে কারা হত্যা করলো? কি কারণে ওকে হত্যা করা হলো? জানতে চাই, হত্যাকারীদের দেখতে চাই। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত তদন্তপূর্বক খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিও জানান।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কার্তিককূল ফাড়ি ইনচার্জ এসআই সুফল জানান, কার্তিককূল এলাকায় যুবক খুনের ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, আসামী গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঃ মোরাদুল ইসলাম জানান, যুবক খুনের ঘটনায় নিহতের মা অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের মামলা করেছেন। বিভিন্ন বিষয়কে সামনে নিয়ে আমরা তদন্তের কার্যক্রম চলমান রেখেছি। পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারেও আমাদের একাধীক টিম কাজ করছে। আশাবাদী দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকা-ের প্রকৃত রহস্য উৎঘটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হবে পুলিশ। উল্লেখ্য, দৌলতপুর থানাধীন বাইপাস সড়ক সংলগ্ন কার্তিককূল জনৈক ব্যক্তির মাছের ঘের হতে ভাসমান অবস্থায় নিখোঁজের তিন দিন পর বুধবার (২৬ আগষ্ট) সন্ধ্যায় মনিরুল ইসলাম (রনি) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত গলায় রশি দিয়ে চেপে ধরার দাগ, পেট ফাঁড়া (নাড়ি-ভুড়ি বের হওয়া), দু’হাত ও পা পিঠমোড়া দিয়ে বাঁধা এবং বালি ভরা বস্তা হাতের সাথে বাঁধা অবস্থার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সকল আইনগত প্রক্রিয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করে নিহতের পরিববারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ, একই দিনের বাদ আসর মহেশ^রপাশা পশ্চিমপাড়া মোড় এলাকায় নিহতের জানাযা নামাজ সম্পন্নের পর সরকারি মহেশ^রপাশা (সাড়াডাঙ্গা) কবরখানায় দাফন সম্পন্ন হয়। সর্বশেষ, শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) সকালে নিহতের মা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ রিপোর্টার লেখা পর্যন্ত ওই হত্যাকা-ের ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।



