চিকিৎসক না হয়েও ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ন্যায় জটিল কঠিন রোগী দেখেন মণিরামপুর সরকারি হাসপাতালের কার্ডিওগ্রাফার মোস্তাফিজুর!

মোঃ আব্বাস উদ্দীন,মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধিঃ চিকিৎসক না হয়েও হাসপাতালের চেম্বারে বসে মেডিকেল অফিসার সেজে ডায়াবেটিস,উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগের ন্যায় জটিল কঠিন রোগী দেখেন মণিরামপুর সরকারি হাসপাতালের কার্ডিওগ্রাফার মোস্তাফিজুর রহমান!
গত বৃহস্পতিবার সকালে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের ১১৭ নম্বর কক্ষে (এনসিডি কর্নার) মেডিকেল অফিসারের চেয়ারের পাশের এশটি চেয়ারে বসে দিব্যি ডাক্তার সেজে জটিল সব রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাপত্র দিতে দেখা যায় হাসপাতালের কার্ডিওগ্রাফার মোস্তাফিজুর রহমানকে। তিনি স্যারের (উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক) কথামত রোগী দেখছেন বলে সাংবাদিকদের জানান। চিকিৎসক না হয়েও রোগী দেখছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোগীদের প্রেসার মেপে ব্যবস্থাপত্র সম্পর্কে বুঝিয়ে দিচ্ছেন বলে জানান।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন ৪০/৫০ জন রোগী এই কর্নারে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু যে চিকিৎসক রোগী দেখছেন তিনি কোন চিকিৎসক নন। তিনি একজন কার্ডিওগ্রাফার। যার কাজ রোগীর ইসিজি করানো। চিকিৎসক সেজে রোগীদের সাথে নিয়মিত প্রতারনা করছেন কার্ডিওগ্রাফার মোস্তাফিজুর সেটা রোগী-সাধারন জানেনই না।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মণিরামপুরে কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিক সরেজমিন মণিরামপুর হাসপাতালে বহির্বিভাগে ১১৭ নম্বর কক্ষে যেয়ে দেখতে পান মেডিকেল অফিসারের ন্যায় একটি চেয়ারে বসে রোগীর ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেনস কার্ডিওগ্রাফার মোস্তাফিজুর রহমান। তার সমানে চারজন রোগী টিকিট হাতে দাড়িয়ে আছে। সকাল থেকে তিনি ১২ জন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন বলে জানান।
সেখানে উপস্থিত জনৈক চুহান হোসেন নামে এক রোগী সাংবাদিকদের জানান, আমি ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখানোর জন্য এসেছি। আমার স্ত্রীও এখানে দেখান। উনি যে চিকিৎসক না তা আমরা রোগীরা কী করে বুঝবো?
মণিরামপুর হাসপাতালের এনসিডি কর্নারে মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘ দিন ধরে রোগী দেখছেন বলে রোগী-সাধারনের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। চিকিৎসক সেজে একজন কার্ডিওগ্রাফার সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখে আসছেন এমন বিষয় জানার পর মণিরামপুর হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে রোগী-সাধারন ও সচেতনমহল হতবাক বনে গেছেন। রোগী দেখার পাশাপাশি এই কক্ষে বসে কার্ডিওগ্রাফার মোস্তাফিজুর রহমান বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধির কাছ থেকে ফিজিশিয়ান স্যাম্পলও নিয়ে থাকেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন চিকিৎসক ও ৮ জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে। এতসব চিকিৎসক থাকতে কার্ডিওগ্রাফার মোস্তাফিজুর রহমান নিয়মিত এনসিডি কর্নারে রোগী দেখেন। যা হতবাক করার মত বিষয়!
কার্ডিওগ্রাফার মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে যে তিনি ইসিজির কাজ না করে হাসপাতালের প্রধানের অনুমতিতে রোগী দেখার কাজ করেন। আর হাসপাতালের দায়িত্বরত সেবিকারা রোগীর ইসিজি করেন।
কার্ডিওগ্রাফার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি এনসিডি কর্নারে রোগীর ওষুধ লিখে দিই। মাঝেমধ্যে ইসিজি করাই। কার্ডিওগ্রাফার হলেও চিকিৎসা বিষয়ে আমার ৪ বছরের ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট আছে। হাসপাতাল প্রধানের আদেশে আমি এখানে বসি।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমদ বলেন, মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়োগ কার্ডিওগ্রাফার হলেও তিনি মেডিসিনে চার বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন। কক্ষের স্বল্পতায় তাকে এনসিডি কর্নারে রোগীদের নাম নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ডায়াবেটিস রোগীদের বই দেখে ওষুধ লিখে দেন।



