ডুমুরিয়ায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে কমিটি গঠনে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ

# যোগ্যদের তালিকা দিয়ে নতুন নাম পাঠানোর দাবি
# প্রতিকার চান বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া ইসলামিয়া ওয়াজেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনি মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের তালিকায় যোগ্য প্রার্থীর নাম গোপন রেখে পকেট কমিটি গঠনের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতির মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য স্নাতক পাস অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খান সোহরাব হোসেনের নাম স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী প্রস্তাব করলেও মাদ্রাসা সুপার তার নাম তালিকায় না রেখে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে তিন সদস্যের নামের একটি তালিকা গত ২৪ আগষ্ট ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেছেন।
বিধি অনুযায়ী, স্নাতক পাস তিনজনের নামের তালিকা পাঠানোর কথা থাকলেও ওই সুপার নিজের ইচ্ছামতো তালিকায় দুইজন এইচএসসি পাস লোকের নামও রেখেছেন।
জানা গেছে, তার প্রেরিত তালিকার ৩নং ক্রমিকের ব্যক্তি শেখ আরজু আহমেদ অনার্স পাস হলেও তাকে এইচ এসসি পাস দেখানো হয়েছে। আবার তালিকার ১নম্বরে এস এম সরোয়ার হোসেন এবং ২ নম্বরে তাঁর মামা শ্বশুর শেখ হাবিবুর রহমানের নাম দেওয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূত বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
যার ফলে যোগ্য প্রার্থীদের পূর্ন নামের তালিকা তৈরি করে নতুন করে পাঠিয়ে বিষয়টি প্রতিকারের দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, এই সুপার বিগত আওয়ামীলীগ আমলে মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন- এমন অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ তিনজনের নিয়োগের টাকা, নিয়োগ খরচ এবং মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের কথা বলে সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া অবৈধ অর্থে চুকনগর বাজারে দ্বিতল মার্কেট নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সুপার কর্তৃক প্রেরিত তালিকার ৩নং ক্রমিকে থাকা শেখ আরজু আহমেদ স্বীকার করেন, তিনি স্নাতক পাশ। কিন্তু সুপার এইচএসসি পাশ উল্লেখ করেছেন।
কমিটি থেকে বঞ্চিত বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রধান শিক্ষক খান সোহরাব হোসেন বলেন, আমি জীবনে কোনদিন আওয়ামী লীগ করিনি। ছাত্রজীবনে ছাত্রদল করতাম এবং তার পর থেকে বিএনপির রাজনীতি করি। আমার বিরুদ্ধে বলা হয়েছে আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক। যেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রতিপক্ষ আমাকে কমিটিতে রাখবে না বিধায় এসব তালবাহানা শুরু করেছে। সকলের সম্মিলিত করে একত্রিত হয়ে কমিটি করলে ভালো হতো বলে মনে করি।
খুলনা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বিএনপি নেতা শেখ শামিম বলেন, থুকড়া ইসলামিয়া ওয়াজেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য ইউনিয়ন, ওয়ার্ড বিএনপি নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে মাদ্রাসা সুপারের কাছে স্নাতক পাস একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি খান সোহরাব হোসেনের নাম প্রস্তাব করি। আমাদের আগে সুপারের কাছে অন্য কেউ কোন নাম প্রস্তাব করেনি। কিন্তু স্বার্থান্বেসী সুপার পকেট কমিটি করার জন্য খান সোহরাব হোসেনের নাম প্রস্তাবিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। বিগত সময়ে এই সুপার অনেক নিয়োগ বানিজ্যসহ মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলেও অভিযোগ করে এর প্রতিকার দাবি করেন তিনি ।
এ বিষয়ে থুকড়া ইসলামিয়া ওয়াজেদিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার শেখ আব্দুল হান্নান বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিএনপি নেতা এস এম সরোয়ার হোসেনের নাম প্রস্তাব করলে সেটি খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য তিন সদস্যের নামের তালিকা পাঠিয়েছি। তাঁরা যার কথা বলছে তিনি আওয়ামীলীগ পরিবারের লোক বিধায় এলাকার লোকজন আপত্তি করে। সেজন্য তার নাম তালিকায় পাঠানো হয়নি। এছাড়া আওয়ামীলীগ আমলে শিক্ষক, কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং অবৈধ অর্থে চুকনগর বাজারে দ্বিতল মার্কেট নির্মাণ করার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, সুপার কর্তৃক প্রেরিত তালিকায় কোন অসঙ্গতি থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। সভাপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর চাওয়া- পাওয়াকেই প্রাধান্য দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।



