দুর্নীতি, দখলদারি, টেন্ডারবাজী ও চাঁদাবাজি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে : মিয়া গোলাম পরওয়ার

# খুলনা মহানগরী ও জেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি খুবই শোচনীয় হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশজুড়ে দুর্নীতি, দখলদারি, হলদখল, টেন্ডারবাজী, ও চাঁদাবাজি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। জনগণের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে ১১ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলন ও লংমার্চ কর্মসূচি আরও জোরালো করা হবে। সম্প্রতি দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-কুস্টিয়া লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে খুলনা মহানগরী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীর শান্তিধাম মোড়ের তারের পুকুরস্থ খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর দলীয় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা জামায়াতে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ড. আবু রুবাবা, মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মহানগরী যুব বিভাগের সভাপতি মুকারম বিল্লাহ, তারবিয়াত বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা শেখ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, সমাজ কল্যাণ বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, দাওয়া ও প্রকাশনা সেক্রেটারি মাওলানা শাহারুল ইসলাম, পেশাজীবী বিভাগীয় সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীর, এডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, জেলা কমৃপরিষদ সদস্য মিয়া মুজাহিদুল ইসলাম, মোস্তফা আল মুজাহিদ প্রমুখ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৯৯ জনে। এ পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গুতে মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ জন মারা গেছেন খুলনায়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এরফলে খুলনাতে তা মহামারী আকার ধারন করেছে। প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ হতে এখন পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে তেমন কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা, দেশের নিরাপত্তা বিধান এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি কার্যকর ও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে ১১টি দল দীর্ঘদিন ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ঢাকা-চট্টগ্রাম প্রথম লংমার্চে দেশবাসীর আশাতীত এবং অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। জনবান্ধব ও সময়োপযোগী দাবিগুলো উত্থাপিত হওয়ার কারণেই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে বলে মনে করছেন জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল।
প্রাথমিকভাবে ১১ দলের দাবি ৬ দফা থাকলেও, দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এর সঙ্গে নতুন করে দুর্নীতি, দখলদারি ও চাঁদাবাজি বন্ধের সুনির্দিষ্ট দাবি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এখন এই আন্দোলন ৭ দফায় রূপান্তরিত হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঢাকা-কুস্টিয়া লংমার্চের মাধ্যমে এই দাবিগুলো আরও জোরালোভাবে রাজপথে তুলে ধরা হবে। ৭ দফা দাবিগুলো হলো-গণভোটের গণরায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা; জুলাই গণহত্যাকারীদের দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা; কৃষি খাতের সুরক্ষায় বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট দ্রুত নিরসন করা; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং বাজার সিন্ডিকেট কঠোরহস্তে দমন করা; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা; দেশব্যাপী দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারির সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করা এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ চিরতরে দূর করা।
বর্তমান সরকারের নীতি ও বাজার মনিটরিংয়ের কড়া সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশজুড়ে চলা তীব্র সার সংকট কৃষি উৎপাদনকে চরমভাবে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সময়মতো সার ও জ্বালানি না পাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে গোটা জাতি অচিরেই এক ভয়াবহ খাদ্য সংকট ও চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে এবং কার্যকর বাজার মনিটরিংয়ে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। নিত্যপণ্যের দামে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে এবং দেশ এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির চিত্র তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেন, দেশে খুন, গুম ও অপহরণের মতো মর্মান্তিক ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি জামায়াতের পাঁচজন নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এসব বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলগুলো সংসদে ও রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গঠনের পূর্বে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং দুর্নীতি, টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজি ও দখলদারি আরও জেঁকে বসেছে। এই বহুমুখী জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন হলেও সরকার বিরোধী দলের কোনো গঠনমূলক প্রস্তাবই আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তিনি।
আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত ঢাকা-কুস্টিয়া লংমার্চ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সফল করার জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। একই সঙ্গে এই লংমার্চ এবং এর পথিমধ্যে অনুষ্ঠিতব্য প্রতিটি পথসভা ও গণসংযোগ সফল করে তুলতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।


