স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় অসহনীয় যানজটে নাকাল নগরবাসী : স্থায়ী সমাধান কোথায়?

# নগরবাসীর অভিযোগ : অবৈধ ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত রিক্সা, ফুটপাত দখলে এ দুর্ভোগ বাড়ছে
# একটি সঠিক ও গ্রহনযোগ্য পরিকল্পনার মাধ্যমে যানজট নিরসনের আহ্বান নগরবাসীর

মো. আশিকুর রহমান / শাহরিয়ার রাব্বী : বিভাগীয় শহর খুলনার তীব্র ও অসহনীয় যানজট এখন নগরবাসীর গলারকাঁটা, যা ব্যস্ত নগরীতে ছুটে চলা নগরবাসীর অন্যতম প্রধান সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুলনার গুরুত্বপূর্ন সড়ক, সংযোগস্থলসহ অলিগলি ধরে প্রতিদিন ছুটে চলা নগরবাসীর এ যানজটে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, বিশেষ করে কর্মস্থলে যোগদান ও কর্মশেষে বাড়ী ফেরার পথে এ দুর্ভোগ আরো বাড়ছে। নাগরিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খুলনার ট্রাফিক বিভাগের সঠিকভাবে দায়িত্বপালন না করা, ফুটপাত বা রাস্তা দখল করে ব্যবসা পরিচালনায় সংকুচিত হচ্ছে সড়ক, এই দ্ইু কারনই খুলনার যানজট অন্যতম প্রধান কারণ। যানজট নিরসনকল্পে তারা, খুলনার ফুটপাত ও সড়ক দখল করা ব্যবসায়ীদের প্রতি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করে ফুটপাত ও সড়ক অবমুক্ত করে জনগনের স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের পেশাদারিত্বের সাথে এ গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বপালন করার আহ্বান জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর শিববাড়ী, পাওয়ার হাউজ, ফেরীঘাট, ডাকবাংলা, পিকচার প্যালেস, কোর্ট চত্বর, রয়েল মোড়, পিটিআই মোড়, শান্তিধাম, ময়লাপোতা মোড়, শামসুর রহমান রোড, কমার্স কলেজ মোড়, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, সিমেট্রি রোড, স্যার ইকবাল রোড, পিটিআই মোড়, টুটপাড়া কবরখানা মোড়, সাতরাস্তার মোড়, ফুলমার্কেট, ক্লে রোড, কালীবাড়ি রোড, গল্লামারী মোড়, নিরালা, রূপসা মোড়, দৌলতপুরসহ ব্যস্ততম গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিনই যানজটে শিকার হচ্ছে কর্মজীবী কর্মব্যস্ত মানুষ, স্কুল-কলেজ গামী শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তর। বিশেষ করে এ্যাম্পুলেন্সে মুমূর্ষু রোগী বহনকারী শোকাহত স্বজনরা আরও দুর্ভোগে পড়ছে হাসপাতালমুখি হতে।
তীব্র যানজটে পড়া ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শহরে অবৈধ অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইকসহ ইঞ্জিনচালিত রিক্সারসহ ক্ষুদ্র যানের অবাদ বিচরণ, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা করানো এবং ট্রাফিক নিয়মবির্হিভূত চলাচল এবং ট্রাফিক বিভাগের পেশাদায়িত্বে উদাসীনতা এ দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। এছাড়াও তাদের অভিযোগ, ময়লাপোতা মোড়ের যে ব্যারিকেটের কারণে যানবাহনগুলো পাওয়ার হাউজ সড়কে প্রবেশ করতে ডালমিল পর্যন্ত পাড়ি দিতে হচ্ছে, ফলে ওই সড়কে একদিকে যেমন যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে কর্মস্থলসহ নিজস্ব গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, কেএমটি ট্রাফিক বিভাগ এই ব্যারিকেটটি যানজট নিরসনের উদ্দেশ্যে স্থাপন করলেও যানজটের সমাধান হচ্ছে কি? বিপরীতে যানজট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। রূপসা ও নিরালা থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনগুলো একত্রে মিলেমিলে জটলা সৃষ্টি করছে, যা প্রভাব পড়ছে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ময়লাপোতা মোড়টিতে। কেসিসির দেওয়া লাইসেন্সের তুলনায় শহরে দ্বিগুনেরও বেশি ইজিবাইকের অবাদ বিচরণসহ ট্রাফিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ছুটে যানবহনই শহরের শৃঙ্খলা হনন করছে, যা খুলনার যানজটের অন্যতম কারন। এ বিষয়ে পথচারী রোমান জানান, একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরী করি। প্রতিদিন খর্নিয়া হতে খুলনায় আসি। সারা পথ শান্তিতে চলি, কিন্তু গল্লামারি আসলেই দম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ লাইনে পড়ে তীব্র গরমে অস্থির হয়ে উঠি। এ যানজটের স্থায়ী সমাধান কোথায়?
রিফাত নামের ব্যক্তি জানান, ময়লাপোতা হতে শিববাড়ী মোড়ে একটি কাজের উদ্দেশ্যে যাব। এ পথে সর্বমোট ৫/১০ পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। এতো তীব্র যানজট সেখানে পৌছাতে ২০ মিনিট সময় লেগে গেল। ময়লাপোতা মোড়ে যে উদ্দেশ্যে পুলিশ ব্যারিকেট দিয়েছে, আসলে সেটির কি উদ্দেশ্যে বাস্তবে দৃশ্যমান হচ্ছে? আমি মনে করি এটি নগরবাসীকে আরও দুর্ভোগে ফেলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবি জানান, এক সময়ের শান্তির নগরী খুলনায় আর শান্তি নেই। খুনোখুনি তো লেগেই আছে। এই দিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, অন্যদিকে দিনেজুড়ে যানজট। কোর্টে পৌছাতে জীবন বের হয়ে যায়। যারা শহরের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে আছেন তাদের একটি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান করা উচিত বলে আমি মনে করি। দৌলতপুর হতে রোগী নিয়ে আসা মানিক স্বজন জানান, চাচা অনেক অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি করবো। সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে এ্যাম্পুলেন্স নিয়ে রওনা হলাম। প্রথমেই দৌলতপুর মুহসীন মোড়স্থ পুরাতন সাতক্ষীরা বেহাল রোডের কবলে পরলাম। ভাঙাচোরা রাস্তায় রোগীসহ আমাদের জীবন যেন শেষ। সর্বশেষ হাসপাতালে পৌছাতে গিয়ে প্রতি মোড়ে মোড়ে যানজট। এ কোন শহরে আমরা বাস করি, খুলনা যেন বসবাসের অযোগ্য শহরে পরিনত হচ্ছে। এর সকল সমস্যার সমাধান হবে কবে ? এ বিষয়ে নিরাপদ সড়ক চাই খুলনা মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান মুন্না জানান, ট্রাফিক বিভাগ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে না এটি প্রথম কথা। খুলনার যানজট সৃষ্টি জন্য ট্রাফিক যেমন দায়ি, তেমন ফুটপাত বা রাস্তা দখল করে যারা ব্যবসা করছে তারাও দায়ি। কেসিসির পক্ষ থেকে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে যারা ব্যবসা করছে তাদের উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিলেও সমাধান মিলছে। পুনরায় তারা ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা করে যানজট সৃষ্টি করছে। যারা ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা করছে, তারা গরিব বলে তাদের আইনের আওতায় আনবে না এটা ঠিক নয়, এদের ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করে ফুটপাত ও সড়ক অবমুক্ত করে জনগনের স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের পেশাদারিত্বে জায়গায় কাজ করলে শহরের যানজট অনেকাংশে কমবে বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে কেএমপির এডিসি (ট্রাফিক) শারমিন সুলতানা জানান, খুলনার যানজট নিরসনে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যহত আছে। শহরে ইজিবাইকের লাইসেন্সের তুলনায় বিপুল সংখ্যাক অবৈধ ইজিবাইক চলাচল করেছে। এই অবৈধ ইজিবাইকের চলাচলরোধে প্রতিদিনই আটক ও জরিমানা করা হচ্ছে। আমাদের ডাম্পিং পয়েন্ট নেই, যে কারনে আটক ইজিবাইক দীর্ঘদিন আমরা আটকে রাখতে পারি না, ২/৩ দিন পর ওগুলি আবার ছেড়ে দিতে হয়। শহরের যানজট নিরসন ও অবৈধ ইজিবাইক চলাচলরোধে একটি পরিকল্পনা গ্রহনের সিধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button