স্থানীয় সংবাদ

খুলনা জেলা পুলিশের নির্দেশনা প্রকাশ ঃ দায়িত্বহীনতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নির্দেশনা জনসমক্ষে প্রকাশের ঘটনায় দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকা- হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ শাহ আলম ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন। দায়িত্ব পালন শেষে গভীর রাতে সাদা পোশাকে রূপসা ফেরি পার হয়ে রিকশাযোগে খুলনা মহানগরীর পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার পথে কলেজিয়েট স্কুলের কাছে তিনজন ছিনতাইকারী তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাঁর মানিব্যাগ ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে একজন ছিনতাইকারী চাপাতি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপায়। আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করতে গিয়ে তাঁর দুই হাত গুরুতর জখম হয়।
আহত শাহ আলমকে প্রথমে পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশ সুপার ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে তাঁকে ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বল্পতা থাকায় তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাঁর দুই হাতে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও কয়েকটি আঙুল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে সেগুলোর কর্মক্ষমতা স্থায়ীভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালন শেষে, বিশেষ করে গভীর রাতে সাদা পোশাকে চলাচলের সময় অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার বিষয়ে সতর্ক করতে গত শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপারের স্বাক্ষরে একটি আন্তবিভাগীয় নির্দেশনামূলক অফিস আদেশ জারি করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা পুলিশ জানায়, আদেশটি শুধুমাত্র পুলিশ সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছিল। পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করা কিংবা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি জারি করা হয়নি।
নির্দেশনাটি জনসমক্ষে প্রকাশিত হওয়ায় কিছু বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ নির্দেশনা নিয়ে অপতথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জেলা পুলিশ আরও জানায়, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি থানায় নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি চেকপোস্ট স্থাপন, অপরাধ দমনে অভিযান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এসব তৎপরতার ফলে জেলার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত করবে না। জনসাধারণকে বিভ্রান্ত না হয়ে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে খুলনা জেলা পুলিশ।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button