খালিশপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিব বিশ্বাসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার খালিশপুরে ‘আজাদ স্টোর’ নামে একটি মুদি দোকানে অগ্নিসংযোগ করে মালামাল পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাসসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে নালিশি মামলা করেছেন দোকানমালিক খাদিজা। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় দোকানের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। আদালতের নির্দেশে গত ২২ অক্টোবর খালিশপুর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মামলায় অপর নামীয় অভিযুক্ত হিসেবে আশিকুর রহমান অশোকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আরজি অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে খুলনার খালিশপুর থানাধীন কাদের সরদারপাড়া এলাকার পোর্ট কলোনি বন্ধ গেট এলাকায় অবস্থিত ‘আজাদ স্টোর’ দোকানটিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, আশিকুর রহমান অশোকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দলবদ্ধভাবে দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন দোকান মালিক। বাদী গত ১২ অক্টোবর আদালতে নালিশি আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর বিরোধের জেরে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রত্যক্ষদর্শী, সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নালিশি আবেদনে বাদী উল্লেখ করেন, তিনি একটি ছোট মুদি দোকান পরিচালনার পাশাপাশি পাশের একটি জলাশয় লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেন। এসব কাজ থেকে পাওয়া আয় দিয়েই তাঁর পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হয়। দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তাঁর ব্যবসা ও জীবিকার ওপর আর্থিক ক্ষতির প্রভাব পড়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতে আবেদনের শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগের বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়ে খালিশপুর থানাকে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে ২২ অক্টোবর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যে মামলার নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে ১৭(১০)২৬। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে খালিশপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাস নিজেকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। মামলার বাদী আওয়ামী লীগ করেন। তাঁর ছেলে মাদকাসক্ত। তাঁকে যারা উসকানি দিচ্ছেন, তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের সঙ্গে জড়িত।” দোকানে আগুন লাগার ঘটনা সম্পর্কে হাবিবুর রহমান বলেন, আগুন লাগার ঘটনা সত্য, তবে কে আগুন লাগিয়েছে, তা তিনি জানেন না। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটি রাতের অন্ধকারে ঘটেছে।
খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মুদি দোকানে আগুন দিয়ে মালামাল পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে হাবিবুর রহমান বিশ্বাসসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।



