জাতীয় সংবাদ

বাংলাদেশে নাশকতা চালাতে হাসিনাকে সহযোগিতা করছে ভারত : রিজভী

প্রবাহ রিপোর্ট : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অনেকে তো অন্যের কাছে নিজের স্বাধীনতা বিক্রি করে দিয়ে হলেও ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন। তার প্রমাণ আমাদের সামনে এখনো উজ্জ্বল। পাশর্^বর্তী দেশ (ভারত) ১৪০০ শিশু তরুণ কিশোরের হত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে। এখন বাংলাদেশের ভেতরে নাশকতা করার চেষ্টা করছে। এটা পাশর্^বর্তী দেশ থেকে করানো হচ্ছে, তার মানে পাশর্^বর্তী দেশ শেখ হাসিনার কাছে এতটাই কৃতজ্ঞ যে, অপতৎপরতা চালাতে তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। গতকাল রোববার নয়া পল্টনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। দোয়ার আয়োজন করে জিয়া পরিষদ। এ সময় রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের ভয়ঙ্কর নির্যাতনের কাছে আদর্শচ্যুত হননি তার নামই তো বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আপস করতে পারতেন। শেখ হাসিনাকে ছাড় দিতে পারতেন। দিলে কী হতো? দিলে দেশের প্রতি বিশ^াসঘাতকতা হতো। জনগণের প্রতি বিশ^াসঘাতকতা হতো। আর জনগণের প্রতি বিশ^াসঘাতকতা মানে গণতন্ত্রের সাথে বিশ^াসঘাতকতা। এই পথ অবলম্বন করেননি; বরং মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছেন। একবার না একাধিকবার প্রচ- নিপীড়নের শিকার হলেও তিনি বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি। রিজভী বলেন, এরশাদের আমলে আর টানা শেখ হাসিনার এই ১৬ বছরের দুঃসহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এই নেত্রীকে টলানো যায়নি, নেত্রীকে বস মানানো যায়নি। যে নেত্রী জনগণের স্বার্থ এবং অধিকারের প্রশ্নটাই বড় করে দেখেন, মৃত্যু ভয় যাকে স্পর্শ করতে পারেনি, শেখ হাসিনার দেখানো ভয় টলাতে পারেনি, তিনি বেগম খালেদা জিয়া। আমরা নেতাকর্মীরা সবসময় এই বিষয়টা যদি মনে রাখি তাহলে আমাদের সামনের কোনো বিপদ, বাধা বা স্বৈরতন্ত্র দুঃশাসন- সবকিছু মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে পারব। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ওপর এতো নিপীড়ন-অত্যাচার হয়েছে, তারপরও কিন্তু কোনো দিন কারো সম্পর্কে যারা অত্যাচার করেছে তাদের ব্যাপারেও একটাও কটূ কথা বলেননি। অত্যন্ত নীরবে নিভৃতে সব সহ্য করেছেন, যারা শত্রুতা করেছে যারা তাকে শেষ করে দিতে চেয়েছে তাদের ব্যাপারেও কোনো কটূ কথা বলেননি । হুমকি দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বিচ্যুত করা যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, সংযত কথা এবং বাক্যবিন্যাসে এক অসাধারণ নেতৃত্বের উচ্চতায় তিনি প্রতিষ্ঠিত, আজকে পরিবর্তিত পরিস্থিতি হয়েছে। শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। এখন আমাদের সামনে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেক ছোটখাট বিষয় নিয়ে আমরা ঝগড়াঝাঁটি দেখছি। কিন্তু আমরা যখন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি এবং তার ব্যক্তিগত মহত্ব দেখি, তখন মনে হয় যে আমরা স্বার্থক বেগম খালেদা জিয়ার কর্মী হিসেবে। আমরা স্বার্থক বিএনপির একজন সদস্য হিসেবে । তিনি বলেন, আমাদের শক্তি হচ্ছে এদেশের জনগণ আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার দেখানো পথেই যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন এখন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটাই হচ্ছে আমাদের সবচাইতে বড় ভরসার জায়গা, আমাদের শক্তির জায়গা, আমাদের উদ্দীপনার জায়গা, আমাদের প্রেরণার জায়গা। আমরা আমাদের স্বাধীনতা বিক্রি করতে দেবো না। আমরা সার্বভৌমত্বকেও দুর্বল করতে দেব না। আমরা গণতন্ত্রকে ছিনিয়ে এনেছি। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত কোনো স্বার্থে ১৬ বছর বেগম জিয়ার নেতৃত্বে আমরা লড়াই করিনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button