জাতীয় সংবাদ

বিপিসির জ্বালানিবাহী জাহাজ পেরিয়েছে ‘রেড জোন’

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত (ক্রুড) তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ‘এমটি নিনেমিয়া’। ইতিমধ্যে জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে রেড জোন পেরিয়ে আরব সাগর পাড়ি দিচ্ছে। সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী ৫ বা ৬ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ রুটেই আপদকালীন ক্রুড অয়েল আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বিপিসি ও বিএসসির। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি), ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমটি নিনেমিয়া জাহাজটি ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করে এবং হরমুজ প্রণালীর যুদ্ধাঞ্চল এড়িয়ে আরব সাগরের নিরাপদ এলাকায় পৌঁছে বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের পথে রয়েছে। জাহাজটি সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকাল ৬টায় যাত্রা শুরু করে। তার আগে রাতভর এতে তেল লোড করা হয়। সৌদি আরব থেকে এই চালান পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পুনরায় তেল শোধন কার্যক্রম শুরু করবে। অপরিশোধিত তেলের মজুত শেষ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির একটি ইউনিট সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল। ‘নর্ডিকস পলাক্স’ জাহাজে বিপিসির ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে, সেটি হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকার কারণে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে। বিপিসির ক্রুড অয়েল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, এমটি নিনেমিয়া সফলভাবে রেড জোন পেরিয়ে এসেছে। আমরা আশা করছি, ৬ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। জাহাজটি এখন আরব সাগর পাড়ি দিচ্ছে। এরপর বঙ্গোপসাগরে ঢুকবে। এ রুটে বিপিসির জন্য আরও অপরিশোধিত তেল আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়।পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে, মোট ব্যবহারের ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। এরপর রয়েছে কৃষি খাত, যেখানে সেচকাজে ব্যবহারের জন্য ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ জ্বালানি প্রয়োজন হয়। অবশিষ্ট জ্বালানির মধ্যে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে, ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ শিল্প উৎপাদনে এবং প্রায় ১ শতাংশ গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হয়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন এবং প্লেন চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিপিসি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি বিক্রি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button