জোড়া খুন: হাসিনাসহ আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সিরাজগঞ্জে যুবদল নেতা সোহানুর রহমান রঞ্জু ও বিএনপি কর্মী আব্দুল লতিফ হত্যার দুটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর দুই শতাধিক নেতাকর্মীর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (৪ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানা আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার এ আদেশ দেন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির আনোয়ারসহ দলটির শীর্ষ নেতাকর্মীদের নামে পরোয়ানা জারি হয়েছে। সিরাজগঞ্জ কোর্ট পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানি এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জিআর ৫৩০ ও জিআর ৫২৮ নম্বর মামলায় পলাতক আসামিদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তবে যারা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন, তারা এ আদেশের আওতায় পড়বেন না। তিনি বলেন, যুবদল নেতা সোহানুর রহমান রঞ্জু হত্যা মামলায় মোট ১৯৫ চার্জশিটভুক্ত আসামির মধ্যে ৭০ জন জামিনে রয়েছেন। শেখ হাসিনাসহ ১২৫ আসামি পলাতক রয়েছেন। অপরদিকে বিএনপিকর্মী আব্দুল লতিফ হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৭৮ আসামির মধ্যে ৪১ জন জামিনে রয়েছেন। শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩৭ আসামি পলাতক। দুই মামলায় ২৬২ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তবে অধিকাংশ আসামির নাম দুটি মামলাতেই থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামির সঠিক সংখ্যা বের করতে সময় লাগবে। এর আগে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর সোহানুর রহমান রঞ্জু ও আব্দুল লতিফ হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবীর বিন আনোয়ার, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত মুন্না ও সাবেক এমপি জান্নাত আরা হেনরীসহ সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৩৭৩ নেতাকর্মীর নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা চালিয়ে জেলা যুবদলের সেই সময়ের সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান রঞ্জু ও বিএনপি কর্মী আব্দুল লতিফকে হত্যা করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় সোহানুর রহমান রঞ্জুর স্ত্রী মৌসুমি খাতুন ও আব্দুল লতিফের বোন সালেহা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।



