জাতীয় সংবাদ

‘পদ্মা ব্যারেজ হলে ফারাক্কা নিয়ে বাংলাদেশের বার্গেনিং পয়েন্ট শেষ হয়ে যাবে’

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর ব্যারেজ নির্মাণে সরকারের প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিক ফকির শওকত বলেছেন, ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে আমরা যে ক্ষতিগ্রস্ত এ নিয়ে এখনো দরকষাকষির যে সুযোগ আছে, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের এই বার্গেনিং পয়েন্ট শেষ হয়ে যাবে। ফারাক্কা নিয়ে কথা বলার সুযোগ বাংলাদেশ চিরতরে হারাবে। ঐতিহাসিক ১৬ মে ‘ফারাক্কা লংমার্চ দিবস’ উপলক্ষে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের নিয়মিত আয়োজন ‘এডিটরস চয়েস’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ফারাক্কা বাঁধ ও সম্ভাব্য পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ ও মতামত তুলে ধরেন ফকির শওকত। বাংলানিউজের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুব আলম এবং সামরিক বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা মোহসিনুল করিম। ফকির শওকত বলেন, ফরিদপুরে নদী গবেষণা কেন্দ্রে আমি রিপোর্টিং করার জন্যই গিয়েছিলাম। তখন এই পদ্মা ব্যারেজ করলে আমাদের কী লাভ হবে তা নিয়ে একজন সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আমাকে বললেন, এই ব্যারেজ করার ফলে এখানে যে পলি জমবে, তা যদি না সরানো হয় এক বছর, তাহলে এই নদী আর কখনোই আগের অবস্থায় নেওয়া যাবে না। ব্যারেজ করা মাত্রই ভয়াবহ একটা বিপর্যয় হবে। ‘আপনাদের বোঝার জন্য আমি একটা কথা বলছি, নদীটা যদি আমি ফারাক্কা পয়েন্টে ধরি, এটা সমুদ্রের পৃষ্ঠা থেকে কত ওপরে? এই নদীটা বয়ে যখন এই যে আমাদের রাজবাড়ীর পাংশা এখানে যখন আসবে, আপনি যে জায়গায় বাঁধটা দিচ্ছেন, বাঁধ দেওয়ার ফলে আপনার কতটুকু জায়গায় পানি সংরক্ষণ হবে? কারণ ওখানে যে পরিমাণ উচ্চতা অটোমেটিক্যালি কিন্তু একটি বিশাল অংশে কোনো পানি রিজার্ভার হবে না। পানি রিজার্ভ হয়ে থাকবে একদম বাঁধের কাছাকাছি অঞ্চলে, পাংশা অঞ্চলের কিছুটা অংশে। এটা তো যে রিজার্ভের কথা বলছে, ফারাক্কার পয়েন্ট থেকে এই পর্যন্ত এটা তো কোনোভাবে রিজার্ভ সম্ভব না। নদী তো বহমান থাকে।’ তিনি বলেন, হাইটের জায়গা যখন বর্ষাকালে আসবে, শুষ্ক সময়ে বাঁধটা দিয়ে দেবেন, দিয়ে যখন পানি সরানো বন্ধ করে দেবেন তখন তো একটা লিমিটেড জায়গা থাকে। টোটাল নদীতে কিন্তু কোনো পানির রিজার্ভেশন হবে না। যে কথা ইঞ্জিনিয়াররা বলতেছেন যে, ওপরের নদীতে তাহলে অসংখ্য বাঁধ দেওয়া লাগবে। একটা বাঁধ না, প্রতিটা নদীর যেসব নদীর কথা বলা হয়েছে সেই নদীর সামনে একটা করে বাঁধ দিয়ে পানি সংরক্ষণ করা লাগবে। নিজের বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটা কথা আমি বলে নেই, ফারাক্কা লংমার্চের সময় যে স্লোগানটা ছিল, আমি যে স্লোগান দিয়ে ফারাক্কা মিছিল করেছি, আমি নিজেও যদি সে একই কাজ করি তাহলে কিন্তু আমি…আমার স্লোগানের জায়গায় কিন্তু থাকছি না। আমি একটা ব্যারেজ দিয়ে ওই স্লোগান থেকে সরে আসলাম। ‘আরেকটা কথা হচ্ছে যে, ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে আমরা যে ক্ষতিগ্রস্ত এ নিয়ে এখনো দরকষাকষির যে সুযোগ আছে, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের এই বার্গেনিং পয়েন্ট কিন্তু শেষ হয়ে যাবে। ফারাক্কা নিয়ে কথা বলার সুযোগ বাংলাদেশ চিরতরে হারাবে। যেহেতু বিহারের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন, আরও ক্ষতিগ্রস্ত হলে ওখানকার আরও রাজনৈতিক লিডাররা দাবি তুলবেন, ওখানে একটা দাবি উঠবে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে।’ এই সাংবাদিক বলেন, আমার বিশ্বাস, আমাদের একটু সময় অপেক্ষা করা উচিত এবং সামনে যেহেতু ডিসেম্বর মাসে আসছে, এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তখন সারা বাংলাদেশে এবং পশ্চিমবঙ্গে বা বিহারের মানুষকেও যদি আমরা অর্গানাইজ করতে পারি ফারাক্কার বিরুদ্ধে, সেই এই পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা উচিত। তারপরে আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button