গাইবান্ধায় ঝড়ে বিধ্বস্ত বাড়িঘর-বিদ্যুতের খুঁটি : অন্ধকারে ৮০ হাজার গ্রাহক

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ গাইবান্ধার দুই উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে বাড়িঘর, গাছপালা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভেঙে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৮০ হাজার গ্রাহক। সোমবার (১৮মে) বিকেলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল বারী। তিনি জানান, গতকালের রাতের ঝড়ে হাসপাতাল ও উপজেলা পরিষদসহ অন্যান্য এলাকায় ১২টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে, খুঁটি হেলে পড়েছে চারটি। এছাড়া অন্তত ২০ থেকে ৩০টি স্পটে তার ছিঁড়ে পড়েছে। ফলে মেইন লাইন চালু করা সম্ভব না হওয়ায় ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। আমরা কয়েকটি টিমে প্রায় অর্ধশত জনবল নিয়ে সংযোগ পুনঃস্থাপন কাজে নিয়োজিত রয়েছি। দ্রুত সংযোগ চালু সম্ভব হবে বলে আশা করছি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল রাত আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া প্রবল জোড়ে বাতাসে উপজেলার পৌরশহরের মীররগঞ্জ, দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি, দক্ষিণ ধুমাইটারি, হুড়াভায়া ও গোপালচরণসহ আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পৌর শহরের মীরগঞ্জ বাজারের একটি বিরাট বটগাছ হেলে পড়ে তার ডালপালা ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানকার বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বটগাছ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষসহ কয়েকটি ক্লাসরুম। ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় পানিতে পড়েছে কৃষকের পাকা ধানক্ষেত। বিভিন্ন এলাকায় মানুষের কাঁচা বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল আলম সরকার জানান, গতকাল রাতে ঝড়ের তা-বে তার ইউনিয়নের ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঁচ থেকে সাতটি পরিবার। তাদের বাড়িঘর পুরোপুরি ভেঙে গেছে। বিপুল সংখ্যক গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া তিনি জানান, ধুমাইটারিসহ অন্যান্য এলাকায় ঝড়ে বাড়িঘর, ফসলি জমি ও গাছপালার ক্ষতি হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী তাদের সহায়তার আওতায় আনা হবে। এদিকে একই রাতে ঝড়ে ল-ভ- হয়ে গেছে ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিচন্ডসহ পুরো ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রাম। এতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ওই গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মসজিদ মাদরাসাসহ কাঁচা ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসল। মারা গেছে গৃহপালিত পশু। এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, গতকাল রাত ১১টার দিকে হঠাৎ ঝড়ে এরেন্ডাবড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ হরিচন্ডি গ্রামের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়ি-ঘর ভেঙে গিয়ে তাদের মধ্যে কেউ কেউ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। রাতের ঝড়ে গাছ ও ঘর-বাড়ির নিচে পড়ে ময়নাল নামে এক ব্যক্তির দুটি ছাগল মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এখুনি জরুরি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। এসময় তিনি জানান, শুধু এই ওয়ার্ড নয়, পুরো ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রাতের ঝড়ে উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বুলবুলির নামক চরেও ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয়রা। বুলবুলির চরে ঘরবাড়ির টিন বাতাসে বিচ্ছিন্নভাবে উড়ে গেছে বলেও জানা গেছে। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত রাতে ঝড়ে এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলে বাড়ি ঘরের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সম্ভাব্য সহায়তা দেওয়া হবে।



