আগুনে সব হারিয়ে নিঃস্ব ব্যবসায়ীরা, নগদ টাকাও পুড়ে ছাই

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ের কলমিলতা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে শতাধিক দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দোকানের মালামালের পাশাপাশি নগদ অর্থও পুড়ে যাওয়ায় অনেকেই কার্যত নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে আগুন লাগার পর খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বাজারের নিচতলার অধিকাংশ দোকানই আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের ভেতরে এখন শুধু পোড়া কাঠ, ভাঙা টিন ও ধ্বংসস্তূপ। দোকান মালিকদের কেউ কেউ নিজেদের শেষ সম্বলও হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কলমিলতা বাজারের ৯৯, ১০০ ও ১০১ নম্বর গোশতের দোকানের মালিক মো. মেহেদী হাসান (রনি) বলেন, আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম। শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করছি। দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলেও তারা প্রায় ৪০ মিনিট পর আসে। যদি আরও দ্রুত আসত, তাহলে অনেক দোকান বাঁচানো যেত। তিনি আরও জানান, দ্রুত কিছু মালামাল বের করতে পারলেও অধিকাংশ দোকানই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। একই বাজারের ৪৪ ও ৩৫ নম্বর কাঁচামাল দোকানের মালিকের ভাগিনা মো. সবুজ বলেন, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে কিছুই বের করতে পারিনি। আমার নগদ ৮০ হাজার টাকা ও প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। অন্য ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রিয়াজুল হক বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। দোকানের প্রায় ২৫ হাজার টাকাও আগুনে পুড়ে গেছে। সামনে ঈদ, এখন কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। সরকার যদি পাশে দাঁড়ায় তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাব। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং ৫টা ২০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি আরও জানান, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশনের মোট ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আগুনে শুধু দোকান নয়, জীবনের সব সঞ্চয়ও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।



