গরু জবাইয়ে নিষেধাজ্ঞায় উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

বন্ধ হয়ে গেছে গরু বেচাকেনা
পথে বসার উপক্রম হিন্দু ব্যবসায়ীদের
হিন্দু গরু পালকরা ক্ষোভ ঝাড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু’র ওপর
প্রবাহ ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ৯ মে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে নানা পদক্ষেপ নেওয়ায় রাজ্য উত্তাল হয়ে উঠেছে। ঈদুল আযহার আগে পশ্চিমবঙ্গে গরুর মাংস বেচাকেনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
মে মাসের শেষ সপ্তাহে মুসলিম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার আগে রাজ্যজুড়ে গরুর মাংস কাটা, কেনাবেচা করার ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিজেপির সদ্য নির্বাচিত এমএলএরা রাস্তায় নেমে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। কলকাতায় গরুর মাংস প্রায় পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, এই নিষেধাজ্ঞার জেরে কাজ হারিয়েছেন মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
গরুর ‘জন্মসনদ’ প্রয়োজন : সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো গবাদিপশু জবাই করা যাবে না। গবাদিপশু জবাই করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অথবা পশ্চিমবঙ্গের প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আগাম লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
এই নিষেধাজ্ঞার কারণে পশ্চিমবঙ্গে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে গরু বেচাকেনা। গরুর মাংস বা মাংস দিয়ে তৈরি খাবারদাবার পাওয়া যাচ্ছে না কলকাতার রেস্তোরাঁগুলোয়।
সরকারি এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত জেলাগুলোয় অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তবে শুধু সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের নয়, এই নির্দেশিকায় ক্ষতি হচ্ছে হিন্দুদেরও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক হিন্দু গরুর খামারি ও ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা গেছে, বছরের এ সময়ে গরু বিক্রি করে তারা ভালো রোজগার করেন। সারা বছরের আয়ের বড় অংশই তারা এ সময়ে গরু বেচে বাজার থেকে তুলে নেন। হঠাৎ জারি করা নিষেধাজ্ঞা তাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
বিজেপির এমএলএরা রাস্তায় গবাদিপশুর গাড়ি দাঁড় করিয়ে গরুর ‘জন্মসনদ’ দেখতে চাইছেন বলে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হিঙ্গলগঞ্জ থেকে করা এক প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে। একটি স্থানীয় পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার হিঙ্গলগঞ্জ এলাকার লেবুখালীতে একটি গবাদিপশুবাহী গাড়ি আটক করেন হিঙ্গলগঞ্জের বিজেপি এমএলএ রেখা পাত্র।
বিজেপির এই বিধায়কের বক্তব্য ছিল, রাজ্য সরকার ১৪ বছরের কম বয়সী গরু জবাইয়ের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অতএব গরুগুলোর জন্মের নথি বা ‘বার্থ সার্টিফিকেট’ দেখালে তবেই সেগুলোকে নিয়ে যেতে দেওয়া হবে। গরুর ‘জন্মসনদ’ দেখাতে না পারলে সেগুলোকে ছাড়া হবে না।
তৃণমূল কংগ্রেসের এমএলএ কুনাল ঘোষ এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আমরা বিধায়কের কাছে অনুরোধ করব, বিজেপিশাসিত কোনো রাজ্যের অন্তত একটি গরুর ‘জন্মসনদ’ আমাদের দেখান, তাহলে বিষয়টি আমাদের রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগবে।’



