ফেরীতে বাস উঠতে গিয়ে ফের নদীতে

# রাজবাড়ীতে বাসডুবি ট্র্যাজেডির শিক্ষা : দৌলতদিয়ায় প্রাণহানি শূন্য #
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ যাত্রীবাহী বাসটি আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া সাত নম্বর ঘাটে পৌঁছালে সেখানে দায়িত্বে থাকা নৌ-পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে বাসের সব যাত্রীকে নামিয়ে দেয়। দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় ওই বাসের এক নারী যাত্রী ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন। তিনি বলেন, যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার সময় আমি ছিলাম বাস থেকে নামা সর্বশেষ যাত্রী। অর্থাৎ বাসটি ডুবে যাওয়ার আগে চালক ও হেলপার ছাড়া অন্য কোনো যাত্রী বাসে ছিল না। আমার সিট নম্বর ছিল ৮১। গত মার্চ মাসে রাজবাড়ীর ফেরিঘাটে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গিয়ে শিশুসহ প্রায় ২৩ জন যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পরে প্রশাসন ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন নির্দেশনা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসে থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ-পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়। আর এবার বাসটি নদীতে ডুবে গেলেও আগেই সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার কারণে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নৌ-পুলিশের সময়োপযোগী পদক্ষেপেরই এটি প্রতিফলন। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে নৌ-পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম বলেন, নৌ-পুলিশের সতর্কতা, দক্ষতা ও তৎপরতার কারণে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া যায়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, বাসটি ঘাটে পৌঁছানোর পর স্থানীয় নৌ-পুলিশের সদস্যরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সব যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দেন। রেজাউল করিম বলেন, আমার পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনকারী স্থানীয় নৌ-পুলিশ সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ। পাশাপাশি বাস থেকে নেমে যাওয়া যাত্রীদেরও ধন্যবাদ, তারা নৌ-পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি আরও বলেন, গত মার্চ মাসে আপনারা দেখেছেন, একই ধরনের একটি বাসডুবির ঘটনায় অনেক প্রাণহানি ঘটেছিল। সেই ট্র্যাজেডির পর সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নৌ-পুলিশ জনকল্যাণে আরও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। আজ দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানির সংবাদ নেই। নৌ-পুলিশের প্রধান বলেন, নৌ-পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম দেশজুড়ে অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে নৌ-পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, নৌ-পুলিশের সময়োচিত সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা পেয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী। শুক্রবার আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের সাত নম্বর পন্টুনে এ ঘটনা ঘটে। ঘাট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি দূরপাল্লার বাস ফেরিতে ওঠার উদ্দেশে দৌলতদিয়া ঘাটের পন্টুনের দিকে আসছিল। পন্টুনে নামার আগেই সেখানে দায়িত্বরত দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে বাসটি থামিয়ে যাত্রীদের দ্রুত নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। যাত্রীরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার পর বাসের চালক ও হেলপার গাড়িটি নিয়ে ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘাটে দায়িত্বরত নৌ-পুলিশের সদস্যরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তাদের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপে বাসের চালক ও হেলপারকে জীবিত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নৌ-পুলিশের এমন দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকার কারণে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর ঘাটে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের অনেকে নৌ-পুলিশের এই বীরত্বপূর্ণ ও সময়োচিত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফেরিতে বাস ও অন্যান্য যানবাহন ওঠানোর আগে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার নিরাপত্তা বিধান অনুসরণ করায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে শুক্রবার একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এস বি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে দৌলতদিয়া সাত নম্বর ফেরিঘাটে ফেরি ‘কবরী’-তে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কনভেনশন পকেট দিয়ে প্রবেশ করে ফেরির বিপরীত পাশের র্যাম্প ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে যাত্রী নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে ফেরিতে ওঠার আগে বাসটির সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।



