জাতীয় সংবাদ

ভারী বৃষ্টিতে সাংগু নদীর পানি বৃদ্ধি : থানচিতে শতাধিক পর্যটক আটকা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ টানা দুদিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাংগু নদী, রেমাক্রী খালসহ ছোট-বড় অধিকাংশ পাহাড়ি ঝিরি-ঝর্ণায় আকস্মিকভাবে পানি বেড়ে গেছে। নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলোর প্রবল স্রোতের কারণে উপজেলার দুর্গম এলাকায় প্রায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি জানা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী জানায়, রোববার (৫ জুলাই) থেকে থানচি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ফলে সাংগু নদীসহ বিভিন্ন পাহাড়ি খাল ও ছড়ায় পানির প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে। নদী উত্তাল হয়ে ওঠায় নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তিন্দু ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মংপ্রুঅং মারমা জানান, তিন্দুর পর্যটন আকর্ষণ ‘বড় পাথর’ এলাকায় পর্যটকবাহী একটি নৌকা তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ডুবে যায়, তবে মাঝি আগেই পর্যটকদের নিরাপদে নদীর তীরে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও জানান, রেমাক্রী এলাকায় ২০ থেকে ৩০ জন পর্যটক আটকা রয়েছেন, পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের কারণে নদীর পানি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেরা সম্ভব হবে না। থানচি পর্যটক গাইড কল্যাণ সমিতির সভাপতি জওয়াইপ্রু মারমা জানান, রেমাক্রী খালের পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নাফাখুম এলাকায় প্রায় ৭০ জন পর্যটক অবস্থান করছেন। আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা থানচি সদরে ফিরে যাবেন। তবে পর্যটক আটকে পড়ার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত তথ্য পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সাংগু নদী ও ছোট ছোট পাহাড়ি খালের পানি দ্রুত বেড়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে আপাতত তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুমে ভ্রমণের বিষয়ে মৌখিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটক, গাইড এবং নৌযান চালকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ ও নৌকা চলাচল থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button