জাতীয় সংবাদ

নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষণ-হত্যা : আসামির গাড়ি আটকে জনতার বিক্ষোভ

পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও

প্রবাহ রিপোর্ট : নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত রবিউল শিকদারকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার সময় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ। এ সময় পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও এবং নড়াইল-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন তারা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে নড়াইল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে শহরের টার্মিনাল চত্বরে পুলিশবাহী গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
জানা গেছে, সকালে রামচন্দ্রপুর গ্রামের লোকজন অভিযুক্ত রবিউল শিকদারকে আটক করে বেঁধে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নড়াইল সদর থানায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়ার সময় টার্মিনাল এলাকায় আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ গাড়ির গতিরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একপর্যায়ে তারা নড়াইল-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাহারায় অভিযুক্ত রবিউল শিকদারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এ সময় প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, শিশু জান্নাতুলের ধর্ষণ ও হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বিলম্ব বা গড়িমসি তারা মেনে নেবেন না। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের দাবি জানান তারা।
এদিকে, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরের দিকে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। বিচারের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন তারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকালে সদর উপজেলার একটি গ্রামে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে প্রতিবেশী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রবিউলের (৩০) বিরুদ্ধে। পরিবারের তোলা এ অভিযোগের পরপরই পুলিশের একাধিক টিম অভিযুক্ত রবিউলকে আটকে অভিযান শুরু করে। এরই মাঝে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা রবিউলকে আটক করে মারধর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে সদর থানায় নিয়ে আসে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কু-ু বলেন, সোমবার রাতেই রবিউলকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুরেই ওই মামলায় তাকে আদালতে প্রেরণ করলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। দুপুরেই ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সোমবার রাতে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে নড়াইলের সাধারণ মানুষ। অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে রাতেই হাসপাতালে চত্বরে মানববন্ধন হয়। এরপর মঙ্গলবার সকালে শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে বিচারের দাবিতে সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। পরে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রশাসন গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button