জাতীয় সংবাদ

গৃহকর্মীকে হত্যায় বাধা : দম্পতিকেও খুন

# সিলেটে ট্রিপল মার্ডার #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ সিলেট নগরে পরিকল্পিতভাবে বাসার মালিক, তার স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার কথিত প্রেমিক বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক বাবুল মিয়া ওই এলাকার মৃত নুর মিয়া ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পেশায় কসাই বাবুল মিয়া নিহত গৃহকর্মী তাহমিনাকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি কুপ্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তাহমিনা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হন বাবুল। ওই ক্ষোভ থেকেই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি ওই বাসায় যান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সকালে বাবুল বাসায় প্রবেশের পর গৃহকর্মী দরজা খুলে দেন। পরে তিনি ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে তাহমিনার সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় তাহমিনা আহত হন। তার চিৎকার শুনে বাসার মালিকের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও হামলা করা হয়। পরে বাসার মালিক এগিয়ে এলে তার সঙ্গেও ধস্তাধস্তি হয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হয়ে মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। আটকের পর বাবুল পুলিশকে জানান, হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরিটি পাশের একটি খালি প্লটের জঙ্গলে ফেলে দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ওই ছুরি উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল না। তিনি বলেন, বাবুলের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে হলেও তার জন্ম ও কর্মজীবন সিলেটে। তিনি কসাইয়ের কাজ করেন। হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরিটিও তার কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে বালুচর ঘুরে আবার রায়নগরে তার বাসায় ফেরেন। উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত গৃহকর্মীকে প্রেমের প্রস্তাব ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। মেয়েটি তাকে অপমান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাবুল এই হত্যাকা- ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময়ের মধ্যেই রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় হত্যাকা-টি ঘটে। নিহতরা হলেন-সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আকাখাজানা গ্রামের মৃত আবরু মিয়ার ছেলে এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিতালী ১১১, নিকুঞ্জ ভিলার বাসিন্দা এমএ সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)। তাহমিনা নগরের জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দা। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ও সিলেট চেম্বারের পরিচালক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। তাদের দেখাশোনা করতেন গৃহকর্মী তাহমিনা। তাদের চার সন্তান যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। খবর পেয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে আত্মীয়-স্বজনেরা ঘটনাস্থলে আসেন। ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button