জাতীয় সংবাদ

২ হাজার টাকার জন্য খুন : বাথরুমে মিললো ছুরি

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ কাজের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে রাজমিস্ত্রি কামরুল (৪৪) হত্যা মামলায় আলামিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে নিহত কামরুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকা-ের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আলামিন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এএনএম মোরশেদ। পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা জানান, গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় আমিন আলীর ভাড়া দেওয়া একটি টিনশেড কক্ষ থেকে স্থানীয়রা পচা দুর্গন্ধ পান। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালাবদ্ধ কক্ষের ভেতর একটি মরদেহ দেখতে পায়। মরদেহটি পচনশীল অবস্থায় থাকায় এবং পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় বিষয়টি পিবিআই ঢাকা জেলাকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। কারণ, যে নারীর কাছ থেকে দুই ব্যক্তি ওই কক্ষটি ভাড়া নিয়েছিলেন, তিনি তাদের কোনো পরিচয়পত্র বা মোবাইল নম্বর রাখেননি। পুলিশ সুপার বলেন, ‘এ কারণে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরবর্তীতে আমরা অনেক প্রচেষ্টার পর তার পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হই। একপর্যায়ে জানতে পারি, নিহতের নাম কামরুল। তার বয়স ৪৪ বছর। তার বাড়ি খুলনার কেরানীহাটে।’ তিনি জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্তের পর থেকেই পিবিআই হত্যাকা-ের বিষয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ওই কক্ষে থাকা দুই ব্যক্তির একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে ১৬ আগস্ট রাতে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের একটি দল খুলনার উদ্দেশে অভিযান পরিচালনা করে। পরদিন খুলনা জেলার কেরানীহানা এলাকা থেকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার কাছ থেকে নিহত কামরুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। পরে আলামিনকে ঢাকায় এনে আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকার ওই কক্ষে নেওয়া হয়। পিবিআই কর্মকর্তাদের সামনে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কক্ষটির বাথরুমের ফ্যানের ভেতর থেকে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় গত ১৮ আগস্ট আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করা হয়। নিহত কামরুলের মামাতো ভাই বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পরে মামলাটি পিবিআই ঢাকা জেলা অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে। তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে আমরা এই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করি। তখন সে আদালতে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জবানবন্দি প্রদান করে।’ তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেপ্তার আলামিন ও নিহত কামরুল একই এলাকার বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরের পরিচিত। তাদের গ্রামের বাড়ি খুলনা জেলার কেরানীহানা থানার নয়া বারাসাত এলাকায়। দুইজনের বাড়ির মধ্যবর্তী দূরত্ব আধা কিলোমিটারেরও কম। পিবিআই জানায়, আলামিনের পরিবারের সদস্যরা ২০০৩ সালের দিকে ভারতে চলে যান এবং সেখানেই অবস্থান করেন। তবে আলামিন বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করত। চলতি বছরের জুন মাসের দিকে সে আবার বাংলাদেশে আসে। আলামিন ও কামরুল দুজনই পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তারা চার-পাঁচজন মিলে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের দিকে কাজের সন্ধানে বের হন। একপর্যায়ে তারা একটি মাছের ঘেরে কাজ করেন। সেখানে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আলামিন ও কামরুল কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে আসেন। গত ৮ আগস্ট রাতে তারা ঢাকায় আসেন। ওই রাতে কামরুলের এক আত্মীয়ের বাসায় আলামিনও ওঠে। পরদিন ৯ আগস্ট তারা আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় আমিন আলীর একটি টিনশেড কক্ষ ভাড়া নেন। ওই কক্ষের মাসিক ভাড়া ছিল ৪ হাজার টাকা। তারা ১ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে সেখানে ওঠেন। পরে তারা আশুলিয়া এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। তবে বাসা ভাড়া দেওয়ার সময় বাড়ির মালিক তাদের কোনো মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্য কোনো পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য রাখেননি। পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, সেখানে পাঁচ-ছয় দিন কাজ করার পর গত ১৪ আগস্ট রাতে আলামিন ও কামরুলের মধ্যে কাজের টাকা নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। রাজমিস্ত্রির কাজ করলেও কামরুলকে ২ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পুলিশ সুপার এএনএম মোরশেদ বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আলামতের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার আলামিনকে এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহতের মোবাইল ফোন ও হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে দেওয়া তার ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button