জাতীয় সংবাদ

বন্দরে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকে হত্যা : ৬ ঘণ্টার মধ্যে ১১ জন গ্রেপ্তার

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সালেহ নগর এলাকায় শেখ সিফাত গ্রুপের সশস্ত্র হামলায় মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল (৪০) নামের এক রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন। ঘটনা এপর্যন্ত সন্দেহভাজন ১১জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ‎(২০ আগস্ট) দিবাগত রাত্র সালেহ নগর সিকদার মালেক সাহেবের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তায় এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। ‎নিহত মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ি এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। ‎স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে সালেহ নগর এলাকায় রাস্তায় একা পেয়ে শেখ সিফাত গ্রুপের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে বুলবুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ‎পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ‎জানা গেছে, নিহত বুলবুল গত ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দায়ের করা একটি বৈষম্যবিরোধী মামলার (মামলা নং-১৪) প্রধান বাদী ছিলেন। উক্ত মামলায় অভিযুক্ত শেখ সিফাত ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। ‎স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহার না করা এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে। শেখ সিফাত গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে শাহী মসজিদ ও বউবাজার এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি এবং সশস্ত্র হামলার মতো একাধিক অপরাধমূলক কর্মকা- চালিয়ে আসছিল। ‎হত্যাকা-ের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জন স্থানীয় বাসিন্দা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভ করছে। বিক্ষুব্ধ জনতা মূল অভিযুক্ত শেখ সিফাতের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে হামলা চালায় এবং সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়। বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুনরায় বড় ধরনের সহিংসতা বা রক্তপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ‎বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে জাহিদ আল আমিন বুলবুল (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারীসহ ১১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। এ সময় আসামিদের কাছ থেকে ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত জাহিদ আল আমিন বুলবুল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আন্দোলনরত ছাত্রদের খাবার সরবরাহ করতেন। এরই জেরে গত ২৩ জুলাই আসামিরা অনধিকার প্রবেশ করে তার অটো রিকশার গ্যারেজ থেকে ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় মামলা দায়ের করায় আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্ট রাতে নিহত বুলবুল কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সালেহ নগর এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তার পথরোধ করে। পরে শীর্ষ সন্ত্রাসী শেখ সিফাতের হুকুম ও নেতৃত্বে আসামিরা রামদা, চাপাতি, লোহার পাইপ ও সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করে। ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২১ আগস্ট থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৪০) করা হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশের একটি টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে মূল আসামি শেখ সিফাতসহ (৩২) মোট ১১ জন আসামিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার অন্য আসামিরা হলেন, জুমান (২৮), মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মো. সিয়াম (২৫), মোসা. মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) এবং সিজান ওরফে জিসান (২৬)। গ্রেপ্তারকালে আসামিদের কাছ থেকে ১টি রামদা, ২টি সুইচ গিয়ার চাকু, ১টি স্টিলের চাপাতি, ১টি লোহার পাইপ, ১টি প্লাস্টিকের বাট যুক্ত স্টিলের ছুরি, ৪টি এসএস এর লোহার পাইপ এবং ১টি ওয়াকি-টকি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মূল আসামি শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুমানের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button